বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ারবাজার কোনগুলো?

বিশ্বের সব বাজারে বিনিয়োগের পরিবেশ বা ঝুঁকি এক রকম নয়। কোথাও রয়েছে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, আবার কোথাও যুদ্ধ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বা বিপর্যয়ের কারণে বিরাজ করছে চরম অস্থিরতা। এসব বিষয় বিবেচনা করে বিশ্বের ১৭৭টি দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ঝুঁকি নিয়ে একটি বৈশ্বিক তালিকা প্রকাশ করেছে ‘ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্ট ডট কম’।

বিনিয়োগ ঝুঁকি, শেয়ারবাজার, বৈশ্বিক ঝুঁকি সূচক, বাংলাদেশের শেয়ারবাজার, ঝুঁকিপূর্ণ বাজার, বৈশ্বিক অর্থনীতি, বিনিয়োগ, অশ্বথ দামোদারান, Investment Risk, Share Market Bangladesh.

বিনিয়োগের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও নিরাপদ শেয়ারবাজার কোনগুলো? ১৭৭টি দেশ নিয়ে তৈরি বৈশ্বিক ঝুঁকি সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ও শেয়ারবাজারের হালচাল জেনে নিন।

নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক অশ্বথ দামোদারানের গবেষণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা এই বিশ্ব ঝুঁকি সূচকে উঠে এসেছে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও নিরাপদ দেশগুলোর নাম। চলুন জেনে নিই এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান এবং বৈশ্বিক শেয়ারবাজারের চিত্র।

কীভাবে নির্ধারণ করা হলো বিনিয়োগের ঝুঁকি?

কোনো দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে গেলে বিনিয়োগকারীরা অতিরিক্ত কত মুনাফা আশা করেন বা 'ইকুইটি রিস্ক' (বিনিয়োগ ঝুঁকি) কতটুকু, সেটিই মূলত বিশ্লেষণ করেছেন অধ্যাপক অশ্বথ দামোদারান।

এই হিসাব করতে তিনি কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নিয়েছেন:
  • প্রতিটি দেশের ক্রেডিট রেটিং বা ঋণমান।
  • দেশটিকে ঋণ দিতে গেলে বিনিয়োগকারীরা কত বাড়তি সুদ চান।

বাজার কতটা পরিণত।

অধ্যাপক দামোদারানের মতে, কোনো দেশের বিনিয়োগ ঝুঁকির পেছনে মূলত দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত সংকটই প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করে।


বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাজার কোনগুলো?

অধ্যাপক দামোদারানের সূচক অনুযায়ী, যুদ্ধ বা অর্থনৈতিক ধসের কারণে বিশ্বের বেশ কিছু দেশে বিনিয়োগ ঝুঁকির হার ৩০ শতাংশের ওপরে।

  • সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ৪ দেশ (ঝুঁকি ৩০.৯%): বেলারুশ, লেবানন, সুদান ও ভেনেজুয়েলা।
  • দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ৮ দেশ (ঝুঁকি ১৯.৮%): বলিভিয়া, কিউবা, মিয়ানমার, উত্তর কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা, সিরিয়া, ইউক্রেন ও ইয়েমেন।

কেন এই দেশগুলো চরম ঝুঁকিতে?

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর বিরোধী মত দমনে কঠোরতা বাড়ায় বেলারুশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। লেবাননের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং সেখানে সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি দেশটিকে কার্যত ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। এছাড়া ২০২৩ সাল থেকে সুদানে চলা গৃহযুদ্ধ এবং ভেনেজুয়েলায় তেলশিল্প ও অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি অব্যবস্থাপনা দেশগুলোকে চরম সংকটে ফেলেছে।

সবচেয়ে নিরাপদ শেয়ারবাজার কোথায়?

বিশ্বের কিছু স্থিতিশীল অর্থনীতিতে বিনিয়োগের ঝুঁকি মাত্র ৪ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। গোটা বিশ্বে মাত্র ১৯টি দেশের ঝুঁকির মাত্রা ৫ শতাংশের কম।

সবচেয়ে কম ঝুঁকির ১২ দেশ (ঝুঁকি ৪.২%): কানাডা, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, সুইডেন ও নেদারল্যান্ডসসহ মোট ১২টি দেশ। বিনিয়োগকারীরা এসব দেশকে সবচেয়ে নিরাপদ বাজার মনে করেন।


যুক্তরাষ্ট্র: বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ঝুঁকির মাত্রা ৪ দশমিক ৫ শতাংশ।
বৈশ্বিক এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান কত?

১৭৭টি দেশের এই বৈশ্বিক তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৫৮তম। বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ ঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ দশমিক ৪ শতাংশ।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:

বাংলাদেশের চেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে মিয়ানমার (৭ম, ঝুঁকি ১৯.৮%), শ্রীলঙ্কা (৯ম, ঝুঁকি ১৯.৮%), মালদ্বীপ (২৪তম, ঝুঁকি ১৫.৯%) এবং পাকিস্তান (৩৯তম, ঝুঁকি ১৩.৯%)।


অন্যদিকে, বাংলাদেশের চেয়ে কম ঝুঁকিতে রয়েছে নেপাল (৮২তম, ঝুঁকি ৮.৯%) এবং ভারত (১০৫তম, ঝুঁকি ৭.১%)।

ইউরোপের বাজারও শতভাগ ঝুঁকিমুক্ত নয়

উন্নত অর্থনীতির অঞ্চল হলেও গোটা ইউরোপ বিনিয়োগের জন্য সমানভাবে নিরাপদ নয়। বিশেষ করে ২০০৯ সালের ঋণসংকটে ক্ষতিগ্রস্ত দক্ষিণ ইউরোপের দেশগুলোতে এখনো বিনিয়োগকারীদের আস্থায় প্রভাব রয়ে গেছে।

এর মধ্যে স্পেন ও পর্তুগালের ঝুঁকির মাত্রা ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। এছাড়া ইতালিতে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ এবং গ্রিসে এই হার ৭ দশমিক ১ শতাংশ।

ঝুঁকিপূর্ণ বাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের ভাবনা কী?

সব বাজারেই ঝুঁকি ও মুনাফার সমীকরণ এক নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক বিনিয়োগকারী সাধারণত ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ারবাজারে প্রবেশ করতেই চান না। উদীয়মান বাজারগুলোতে মুনাফার সম্ভাবনা যতই বড় হোক না কেন, বিনিয়োগকারীরা মূলত সেই দেশগুলোকেই অগ্রাধিকার দেন যেখানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রয়েছে, অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক সংস্কার দৃশ্যমান এবং যা বৈশ্বিক প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.