পরকীয়া প্রেমের জেরে সংসারে অশান্তি ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে ছোট পর্দার অভিনেতা জাহের আলভীকে আইনি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে তাঁর শ্বশুরবাড়ি। স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় আলভী ও তাঁর মায়ের বিরুদ্ধে ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনা’র অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ছোট পর্দার অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুকে ঘিরে মামলা ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, মানসিক নির্যাতন ও পারিবারিক দ্বন্দ্ব নিয়ে বিস্তারিত জানুন এই প্রতিবেদনে।
গত রোববার (২ মার্চ) রাজধানীর পল্লবী থানায় এই মামলাটি করেন ইকরার বাবা কবির হায়াত খান। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইকরার মামা শেখ তানভীর আহমেদ।
দুই বছর আগের সেই ‘ভুল’ ও দাম্পত্যে ফাটল
থানায় দেওয়া অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৩ সালে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন আলভী ও ইকরা। তাঁদের কোলজুড়ে আসে এক পুত্রসন্তান। কিন্তু সুখের এই সংসারে ঝড় ওঠে বছর দুয়েক আগে। সে সময় ইকরা জানতে পারেন, স্বামী আলভী অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, এই পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই সংসারে নেমে আসে ঘোর অমানিশা। বিষয়টি পারিবারিকভাবে মিটমাটের চেষ্টা করা হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। উল্টো আলভী ও তাঁর মা নাসরিন সুলতানা শিউলি মিলে ইকরাকে মানসিক নির্যাতন শুরু করেন এবং তাঁকে জীবন থেকে সরে যাওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন।
ফেসবুকে আলভীর ‘উসকানি’
মামলার এজাহারে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ইকরার পরিবারের দাবি, মৃত্যুর ঠিক আগের দিন অর্থাৎ ২৭ ফেব্রুয়ারি, জাহের আলভী অন্য এক নারীর সঙ্গে ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। পাশাপাশি ইকরাকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন অপমানজনক পোস্টও দিতেন তিনি। স্বামীর এমন আচরণ ইকরার মানসিক যন্ত্রণাকে অসহনীয় পর্যায়ে নিয়ে যায়, যা শেষ পর্যন্ত তাঁকে আত্মহননের দিকে ঠেলে দেয় বলে অভিযোগ স্বজনদের।
কী ঘটেছিল সেদিন?
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে আলভীর মা নাসরিন সুলতানা ফোন করে ইকরার মামাকে জানান যে, মিরপুর ডিওএইচএসের বাসায় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ইকরা। পরে তাঁকে দ্রুত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান ইকরার পরিবারের সদস্যরা। পুলিশ সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
মামলার আসামি ও তদন্ত
এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিনেতা জাহের আলভীকে প্রধান আসামি (১ নম্বর) এবং তাঁর মা নাসরিন সুলতানাকে দ্বিতীয় আসামি করা হয়েছে। পরিবারের সঙ্গে পরামর্শ ও সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগায় মামলা করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাদী। এখন পুলিশের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উন্মোচনের অপেক্ষায় রয়েছেন ইকরার শোকসন্তপ্ত স্বজনেরা।

কোন মন্তব্য নেই: