Header Ads

রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার পদে বিএনপির শর্টলিস্টে কারা?

স্পিকার, রাষ্ট্রপতি, বিএনপি, বাংলাদেশ রাজনীতি, জাতীয় সংসদ, রাজনৈতিক আলোচনা, নির্বাচন প্রস্তুতি, সরকারবিরোধী আন্দোলন, রাজনৈতিক কৌশল, ক্ষমতার সমীকরণ


স্পিকার ও রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তুঙ্গে। বিএনপিতে চলছে কৌশল নির্ধারণ ও নির্বাচন প্রস্তুতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক।


গত ১২ ফেব্রুয়ারি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের বয়স এখন ১৫ দিন। মন্ত্রিসভা গঠনের পর ক্ষমতাসীন দলের হাইকমান্ডের নজর এখন রাষ্ট্রের সবচেয়ে সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ দুটি চেয়ারের দিকে—বঙ্গভবন এবং জাতীয় সংসদের স্পিকার। আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনকে সামনে রেখে এই দুই পদে হেভিওয়েট প্রার্থীদের আমলনামা বিশ্লেষণ করছেন দলের নীতিনির্ধারকরা।
বিজ্ঞাপন

বঙ্গভবনের দৌড়ে এগিয়ে মোশাররফ

সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ এখনো বহাল। তবে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া এই রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের জোরালো দাবি উঠেছে খোদ সরকার ও বিরোধী শিবির থেকে। ফলে নতুন রাষ্ট্রপ্রধান খোঁজার একটি প্রচ্ছন্ন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

দলীয় সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, এই পদে সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ও দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামের জ্যেষ্ঠ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও গ্রহণযোগ্যতার কারণে তাকেই উপযুক্ত মনে করছেন অনেকে। শুরুতে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম জল্পনায় থাকলেও তিনি নিজেই বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তার মতে, বিএনপিতে এই পদের যোগ্য অন্তত তিন-চারজন নেতা আছেন। তবে রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই আলোচনা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। দলীয় সূত্রগুলোও বলছে, এই মুহূর্তে রাষ্ট্রপতির চেয়ে স্পিকার নির্বাচনের দিকেই সরকারের মূল মনোযোগ।

স্পিকার হিসেবে যাদের প্রোফাইল ভারী

১২ মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করতে হবে। আইনকানুন ও সংসদীয় কার্যপ্রণালিতে দক্ষ এমন কাউকে এই চেয়ারে বসাতে চায় সরকার।

স্পিকার পদে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে নিচের নামগুলো:

মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ: বর্তমান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী এবং ছয়বারের নির্বাচিত এমপি। ভারসাম্যপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে তিনি পছন্দের শীর্ষে।

ওসমান ফারুক: সাবেক শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে তার প্রশাসনিক ও সংসদীয় দক্ষতা বেশ সমৃদ্ধ।

জয়নুল আবেদীন: সুপ্রিম কোর্টের এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবারই প্রথম এমপি হয়েছেন। তবে সংবিধান, আইন ও সংসদীয় বিধিবিধানে অগাধ পাণ্ডিত্যের কারণে তিনিও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী।

এ বিষয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, স্পিকার হওয়ার মতো যোগ্য বেশ কয়েকজন নেতা দলে আছেন। তিনি জয়নুল আবেদীনের পাশাপাশি খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আবদুল মঈন খানের নামও সম্ভাব্য তালিকায় উল্লেখ করেন।
বিজ্ঞাপন

জামায়াতের ঘরে যাচ্ছে ডেপুটি স্পিকার

সংসদের এই গুরুত্বপূর্ণ পদটি নিয়ে দারুণ একটি রাজনৈতিক চমক দিয়েছে ক্ষমতাসীনরা। 'জুলাই জাতীয় সনদ'-এর সমঝোতার প্রতি সম্মান দেখিয়ে ডেপুটি স্পিকার পদটি বিরোধী দলের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে তাদের প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংসদ উপনেতা নিয়ে ধোঁয়াশা

সংসদীয় রীতি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীই সংসদ নেতার দায়িত্ব পালন করবেন। তবে উপনেতার পদটি নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। মির্জা ফখরুল জানিয়েছেন, বর্তমান সংবিধানে উপনেতা নির্বাচনের কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। তবে অতীতের রেওয়াজ মেনে রাজনৈতিক প্রয়োজনে শেষ পর্যন্ত একজন উপনেতা নিয়োগ দেওয়া হতে পারে বলে দলের অনেক নেতা মনে করছেন।

নির্বাচন প্রক্রিয়া ও চূড়ান্ত ফয়সালা

সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি বলছে, অধিবেশন শুরুর কমপক্ষে এক ঘণ্টা আগে স্পিকার পদের জন্য সচিব বরাবর লিখিত প্রস্তাব জমা দিতে হয়। এরপর প্রস্তাবটি আরেকজন সদস্যের সমর্থন এবং প্রার্থীর সম্মতিসাপেক্ষে ভোটে যায়। যেহেতু গত নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে, তাই তাদের মনোনীত প্রার্থীর বিজয় কেবল আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। একইভাবে পরোক্ষ ভোটে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রেও সরকারি দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

ইতিমধ্যে চিফ হুইপ ও হুইপ নিয়োগ সম্পন্ন করেছে বিএনপি। এখন অভিজ্ঞতা, জ্যেষ্ঠতা ও রাজনৈতিক কৌশলের ওপর ভিত্তি করে শীর্ষ নীতিনির্ধারণী ফোরামের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষা। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে রাষ্ট্রের শীর্ষ এই দুই পদে কারা বসতে চলেছেন।

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.