মামলা খারিজ: আইনি লড়াইয়ে জয়ী বাবর
মূল প্রতিবেদন:
বাবর আজমের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের আলোচিত মামলা বাতিল করল লাহোর হাইকোর্ট। অভিযোগ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হওয়ায় সব আইনি জটিলতা থেকে মুক্ত হয়ে পিএসএলে মনোযোগ দিচ্ছেন এই পাক ক্রিকেটার।
দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা থেকে অবশেষে মুক্তি পেলেন পাকিস্তানি ক্রিকেট তারকা বাবর আজম। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হেনস্তা ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের বহুল চর্চিত মামলাটি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন লাহোর হাইকোর্ট। এফআইআর করার নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এই ক্রিকেটারের করা রিট আবেদনটি আমলে নিয়ে আদালত এই লিখিত রায় প্রদান করেন।
কী ছিল সেই অভিযোগ?
সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নেশন’-এর তথ্যমতে, হামিজা মুখতার নামের এক নারী দাবি করেছিলেন—বিয়ের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বাবর তাঁর সঙ্গে প্রণয়ে জড়ান এবং এর ফলে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। ওই নারীর এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই 'জাস্টিস অব দ্য পিস' বাবরের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর রুজু করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে এই আদেশের প্রবল বিরোধিতা করে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন এই ব্যাটার।
৮ পৃষ্ঠার রায়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ
পুরো বিষয়টি নিয়ে শুনানি শেষে আট পৃষ্ঠার একটি পূর্ণাঙ্গ লিখিত রায় দিয়েছেন বিচারপতি আসজাদ জাভেদ ঘারাল। দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক এবং দাখিল করা নথিপত্র গভীরভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করে হাইকোর্ট এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, বাবরের বিরুদ্ধে আনা দাবিগুলোর বাস্তবে কোনো ভিত্তি নেই।
রায়ে আরও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, পর্যাপ্ত অনুসন্ধান ও আইনি যাচাই ছাড়াই 'জাস্টিস অব দ্য পিস' এফআইআর করার যে হুকুম দিয়েছিলেন, তা পুরোপুরি ত্রুটিযুক্ত। এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে আদালত পূর্বের সেই নির্দেশটি বাতিল ঘোষণা করেন।
মাঠের ক্রিকেটে ফিরছে পূর্ণ মনোযোগ
বর্তমানে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ম্যাচ নিয়ে তুমুল ব্যস্ত সময় পার করছেন বাবর। হাইকোর্টের এই যুগান্তকারী রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চলা মানসিক চাপ ও আইনি অনিশ্চয়তার চিরতরে অবসান হলো। সব ধরনের অভিযোগ থেকে সসম্মানে নিষ্কৃতি পাওয়ায় এখন থেকে সম্পূর্ণ নির্ভার হয়ে কেবল মাঠের খেলাতেই নিজের পুরো ধ্যানজ্ঞান নিবদ্ধ করার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।
মোঃ রাফি
কোন মন্তব্য নেই