চক্রান্ত ও মব কালচার নিয়ে সতর্ক করলেন রিজভী
ঢাকা, ১ জুন:
সরকারের বিরুদ্ধে এখনও চক্রান্তের জাল বিস্তারের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। মব কালচার, কর্মসংস্থান, তারেক রহমান ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন তিনি।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারকে ঘিরে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র এখনও অব্যাহত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তাঁর অভিযোগ, সরকারবিরোধী অপপ্রচারের পাশাপাশি পরিকল্পিতভাবে ‘মব কালচার’ও উসকে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় জাতীয়তাবাদী রিকশা, ভ্যান ও অটোচালক আয়োজিত অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
রিজভী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকেই বিএনপি কর্মসংস্থান সৃষ্টির রাজনীতি করে আসছে। তাঁর দাবি, বিএনপি কখনও বেকারত্ব বাড়ানোর পথে হাঁটেনি; বরং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশির বিদেশে কর্মসংস্থানের ভিত্তি জিয়াউর রহমানের সময়েই তৈরি হয়েছিল।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ পরিচালনার সুযোগ এলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হবে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের জন্য চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করা হবে এবং জীবিকার প্রয়োজনে হকারি করা মানুষদের উচ্ছেদ করা হলে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হবে। কারণ তাদের পরিবার ও সন্তানদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা রয়েছে।
বক্তব্যে তিনি আওয়ামী লীগের ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের শাসনামলের সমালোচনা করেন। ওই সময় দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণেও তখন ব্যাপক সংকট ছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেই সময়ে দুঃশাসন ও অপশাসনের কারণে জনগণ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটিয়েছে।
আরো পড়ুন,
- সাভারে চামড়া আসছে, দাম নিয়ে ক্ষোভ।
- ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম
- পল্লবীতে নিহত শিশুর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রী
আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগও তোলেন রিজভী। তিনি দাবি করেন, গত ১৬ বছরে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের আড়ালে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা, তাঁর ঘনিষ্ঠজন এবং দলীয় ব্যক্তিরা মিলিয়ে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে সরিয়ে নিয়েছেন।
রাজনৈতিক প্রসঙ্গে জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে রিজভী বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার অভিজ্ঞতা সুখকর ছিল না। তিনি দাবি করেন, বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার উদ্দেশ্যে নেওয়া কিছু সিদ্ধান্তের ফলাফল পরে সংশ্লিষ্টদের জন্যও নেতিবাচক হয়েছে।
মব কালচারকে দেশের জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, কোনো ফাঁকফোকর দিয়ে যদি পুরোনো ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনরুত্থান ঘটে, তাহলে শুধু গণতন্ত্র নয়, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বও ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাই সময় থাকতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন রিজভী। এ সময় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে কখনও মাথা নত করেননি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু এবং তাঁতি দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক আরিফুর রহমান তুষার।
অনুষ্ঠান শেষে জাতীয়তাবাদী রিকশা, ভ্যান ও অটোচালকদের পক্ষ থেকে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

কোন মন্তব্য নেই