মেসিকে নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়লেন হোসাম
খেলা ডেস্ক
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিতর্কিত ম্যাচ নিয়ে আবারও মুখ খুলেছেন মিসরের কোচ হোসাম হাসান। রেফারির সিদ্ধান্ত, লিওনেল মেসির আচরণ এবং মাঠের উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তিনি। বিস্তারিত পড়ুন।
ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা এখন সেমিফাইনাল মঞ্চে। আগামীকাল বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে লিওনেল মেসির দল। সেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিসরের শেষ ষোলোর নাটকীয় লড়াই। ওই ম্যাচের বিতর্কিত মুহূর্ত নিয়ে নতুন করে মুখ খুলেছেন মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান।
শেষ ষোলোর সেই ম্যাচে শুরুতে দুই গোলের ব্যবধানে এগিয়ে ছিল মিসর। কিন্তু ম্যাচের শেষদিকে আর্জেন্টিনা ঘুরে দাঁড়িয়ে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়। ম্যাচ শেষে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র আপত্তি জানান হোসাম হাসান। বিশেষ করে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের বিরুদ্ধে ফাউলের অভিযোগে মোস্তফা জিকোর দ্বিতীয় গোল বাতিল হওয়ার সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি তিনি।
ওই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরই ক্ষোভে ফেটে পড়ে মিসরের ডাগআউট। কোচিং স্টাফ ও বদলি খেলোয়াড়রা রেফারির কাছে প্রতিবাদ জানাতে এগিয়ে যান। একই সময় দ্রুত খেলা শুরু করার উদ্দেশ্যে মেসিসহ আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলারও ঘটনাস্থলে চলে আসেন। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে দুই হাত দিয়ে ক্রসের মতো একটি ইশারা করেন হোসাম হাসান।
সেই দৃশ্য সম্প্রচারের পর অনেকেই ধারণা করেছিলেন, বর্ণবাদ বা বৈষম্যবিরোধী প্রটোকলের ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন মিসর কোচ। যদিও ম্যাচ চলাকালে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে বিষয়টি খেয়াল করেননি। তবে অতিরিক্ত প্রতিবাদের কারণে তিনি হোসাম হাসানকে হলুদ কার্ড দেখান।
ঘটনার এক সপ্তাহ পর নিজের সেই অঙ্গভঙ্গির ব্যাখ্যা দিয়েছেন মিসর কোচ। তাঁর ভাষায়, “আমার সেই ইশারাটি বর্ণবাদ নিয়ে ছিল না। আমি রেফারিকে বোঝাতে চেয়েছিলাম যে ‘আপনি ন্যায়বিচার করছেন না।’”
বিশ্বকাপ শেষে দেশে ফেরার পর দারুণ সংবর্ধনা পেয়েছে মিসর দল। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তাদের পারফরম্যান্স নিয়ে সমর্থকদের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। সেই ম্যাচে মেসির সঙ্গে হওয়া কথোপকথনের বিষয়েও বিস্তারিত জানিয়েছেন হোসাম হাসান।
আরো পড়ুন,
- মধ্যপ্রাচ্যে ৪ মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা
- বন্যার শুরু থেকেই নজরে চট্টগ্রাম
- লোক সভায় তৃণমূলে ভাঙন, ২০ সাংসদের আলাদা ব্লকের দাবি
তিনি বলেন, “মেসি আমার দিকে এগিয়ে এসে বারবার বলতে থাকে, ‘কেন? কেন? কেন?’ আরও কিছু বলছিল। ম্যাচ চলাকালে ওকে খুব কমই এভাবে তর্ক করতে দেখা যায়। আবেগের চাপে একসময় সে কেঁদেও ফেলেছিল, কারণ মানসিকভাবে সে প্রচণ্ড চাপের মধ্যে ছিল।”
নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়েও সন্তুষ্ট হোসাম হাসান। তাঁর মতে, ওই দিন মিসর আর্জেন্টিনাকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছিল।
তিনি বলেন, “মিসর অত্যন্ত শক্তিশালী দল হিসেবে সেদিন আর্জেন্টিনাকে কোণঠাসা করে ফেলেছিল। মেসির ক্যারিয়ারের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমি ওর কথার কোনো উত্তর দিইনি এবং বাদানুবাদ এড়িয়ে চলেছি।”
ম্যাচের পর মেসির আচরণ নিয়ে সমালোচনা করেছেন মিসরের টিম ডিরেক্টর ইব্রাহিম হাসানও। তাঁর দাবি, “ও (মেসি) ঠান্ডা মাথায় মাঠে এসেছিল। কিন্তু যখন দেখল রেফারি তাদের পক্ষে কাজ করছেন, তখন পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে ও আমাদের উসকানি দিতে এগিয়ে আসে।”
বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে জয় পেয়েছিল মিসর। যদিও শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নাটকীয় পরাজয়ে তাদের যাত্রা থেমে যায়। তবে সেই ম্যাচ ঘিরে বিতর্ক, রেফারিং নিয়ে অসন্তোষ এবং মেসিকে ঘিরে হোসাম হাসানের নতুন মন্তব্য আবারও আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।
কোন মন্তব্য নেই