ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম

ঢাকা | নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬

মোঃ রাজু আহমেদ


ইসলামী ব্যাংক চেয়ারম্যান, খুরশীদ আলম, ইসলামী ব্যাংক নতুন চেয়ারম্যান, Khurshid Alam, Islami Bank Bangladesh, ইসলামী ব্যাংক খবর, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ব্যাংক চেয়ারম্যান নিয়োগ, এম জুবায়দুর রহমান, ইসলামী ব্যাংক আপডেট, Islami Bank News, Bangladesh Bank News, ইসলামী ব্যাংক চেয়ারম্যান পরিবর্তন, ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশ, ব্যাংক খাতের খবর

সলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলম। চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন এম জুবায়দুর রহমান। নতুন নিয়োগকে ঘিরে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া।

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলম। রোববার রাতে ব্যাংকটিকে পাঠানো একটি চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক। একই দিনে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমান।

তবে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের বিষয়টি প্রকাশের পর থেকেই ব্যাংকটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় খুরশীদ আলম বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেয়েছিলেন এবং কিছু ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকেও সুবিধা দেওয়ার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা নিয়ে আলোচনা ছিল। কর্মকর্তাদের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতর থেকেই তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছিল।

এ অবস্থায় তাঁকে দেশের অন্যতম বড় বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তাঁদের ভাষ্য, সুশাসনের প্রশ্নে এমন সিদ্ধান্ত কী ধরনের বার্তা দেবে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে খুরশীদ আলম বলেন, তিনি প্রথমে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ফোনকল পান এবং পরে আনুষ্ঠানিক নিয়োগপত্র হাতে পান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র জানিয়েছে, গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের নির্দেশনায় এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি সরকারের একটি পক্ষ থেকেও তাঁর নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর খুরশীদ আলমকে ‘মব জাস্টিস’-এর মাধ্যমে পদ ছাড়তে হয়েছিল। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। সেই কারণেই তাঁকে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন সরকার তিন বছরের চুক্তিতে খুরশীদ আলমকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। কিন্তু একই বছরের আগস্টে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে তাকেও দায়িত্ব ছাড়তে হয়।


পেশাগত জীবনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার অধিকারী খুরশীদ আলম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদ থেকে স্নাতকোত্তর ও এমবিএ সম্পন্ন করেন। ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকে সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। ব্যাংকিং নীতি, পরিদর্শন, কৃষিঋণ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, পেমেন্ট সিস্টেম, কারেন্সি ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে কাজ করেছেন তিনি। তাঁর জন্ম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায়।

অন্যদিকে, রোববার চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমান। বাংলাদেশ ব্যাংকে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর সেটি গ্রহণ করা হয় এবং একই সঙ্গে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।

এদিকে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকেও ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল। পরে তিনি পরিচালনা পর্ষদের কাছেও পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। যদিও বোর্ড সভা বাতিল হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

জানা গেছে, ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে নির্ধারিত বোর্ড সভার আগে কিছু গ্রাহক ও কর্মকর্তা বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁরা ওমর ফারুক খানকে দায়িত্বে রাখার পক্ষে অবস্থান নেন এবং চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমানের পদত্যাগ দাবি করেন।

এদিকে ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার চিত্রেও বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা ছিল প্রায় ৪৪৭ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ১৩৭ কোটি টাকায়। একই সময়ে খেলাপি ঋণের হার ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৯ শতাংশে পৌঁছেছে। বর্তমানে ৯২ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ খেলাপির আওতায় রয়েছে।

এ ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশীদারিত্বও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত তা ১৭ দশমিক ৯১ শতাংশে নেমে এসেছে। পাশাপাশি প্রায় ৮২ শতাংশ শেয়ারের সঙ্গে এস আলম গ্রুপের সংশ্লিষ্টতা থাকায় সেগুলো জব্দ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.