সংসদে ‘গণবিরোধী’ বিল । বিরোধী দলের ওয়াকআউট
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬
সংসদে ‘গণবিরোধী’ বিল পাসের প্রতিবাদে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামী ও অন্য দলগুলোর ওয়াকআউট। বিস্তারিত জানতে নিউজটি পড়ুন।
বিতর্কিত বেশ কয়েকটি বিল অনুমোদনের প্রতিবাদ জানিয়ে জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশন সাময়িকভাবে বর্জন করেছেন বিরোধীদলীয় আইনপ্রণেতারা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার সামান্য আগে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় সংসদ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
যেসব বিল ঘিরে এই অসন্তোষ
এদিনের সংসদীয় কার্যক্রমে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল, জেলা পরিষদ বিল, পৌরসভা বিল এবং জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল বিল। বিরোধী বেঞ্চ থেকে এসব আইনি প্রস্তাবনার বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানানো হয়। তবে তাদের সেই আপত্তির তোয়াক্কা না করেই শেষ পর্যন্ত কণ্ঠভোটে বিলগুলো চূড়ান্তভাবে পাস হয়।
দায় নেবে না বিরোধী দল
কক্ষত্যাগের ঠিক আগে ফ্লোর নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, তাদের দেওয়া যৌক্তিক আপত্তিগুলো গ্রাহ্য করা হয়নি। পাস হওয়া বিলগুলোকে 'জনস্বার্থবিরোধী' আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এই আইনগুলোর কোনো দায়ভার বিরোধী দল গ্রহণ করবে না। এই প্রতিবাদের অংশ হিসেবেই তারা অধিবেশন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এই ঘোষণার পরপরই শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বিরোধী শিবিরের সব সদস্য একযোগে সংসদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রশ্ন ও বিরোধীদের প্রত্যাবর্তন
বিরোধীদের এমন পদক্ষেপে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তারা বেরিয়ে যাওয়ার পরপরই ফ্লোর নিয়ে তিনি বলেন, বিল পাসের প্রতিটি আইনি ধাপে—প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় রিডিংয়ে বিরোধীদলীয় সদস্যরা সহায়তা করেছেন। এমনকি তাদের কেউ কেউ হাত তুলে সমর্থনও জানিয়েছেন। আইন প্রণয়নের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার পর হঠাৎ করে এভাবে ওয়াকআউট করার যৌক্তিকতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তবে কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি বিরোধীদের ধন্যবাদ জানান এবং মাগরিবের নামাজের পর তাদের পুনরায় ফিরে আসার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সেই আহ্বানের পর, মাগরিবের নামাজের বিরতি শেষে বিরোধী শিবিরের সদস্যরা পুনরায় সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়ে কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন।

কোন মন্তব্য নেই