যুদ্ধবিরতির খোঁজে ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র।
যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে ইসলামাবাদে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা কমাতে দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনায় নতুন আশার সঞ্চার।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাপ কমাতে পাকিস্তানের রাজধানী এখন বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। হরমুজ প্রণালি সংকট নিরসন এবং দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি নিয়ে চূড়ান্ত রফাদফার লক্ষ্যে শনিবার সকালে ইসলামাবাদে আলোচনার টেবিলে বসছে তেহরান ও ওয়াশিংটন। এই ঐতিহাসিক সমঝোতায় সফলভাবে দূতিয়ালি বা মধ্যস্থতা করেছে পাকিস্তান।
ইসলামাবাদে তেহরানের হেভিওয়েট দল
শুক্রবার রাতেই পাকিস্তানের মাটিতে পা রেখেছে ইরানি হাই-কমান্ড। দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে তেহরানের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ।
তাঁর নেতৃত্বে ইরানি শিবিরে আরও যারা রয়েছেন:
- আব্বাস আরাগচি (পররাষ্ট্রমন্ত্রী)
- মোহাম্মদ বাকের জোলকাদর (সুপ্রিম ন্যাশনাল কাউন্সিলের সেক্রেটারি)
- আলী আকবর আহমাদিয়ান (ডিফেন্স কাউন্সিলের সেক্রেটারি)
- আবদোল নাসের হেম্মাতি (কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর)
- তাঁদের সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা।
বিমানবন্দরে এই ইরানি অতিথিদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায় পাকিস্তানের শীর্ষ কর্তারা। বরণ করে নেওয়ার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি এবং নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক।
ওয়াশিংটনের পক্ষে থাকছেন যারা
তেহরানের সাথে একই টেবিলে বসতে ইতিমধ্যে পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে উড়াল দিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারাও। এই হাই-প্রোফাইল আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কাঁধেই থাকছে মার্কিন শিবিরের মূল দায়িত্ব।
জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে মার্কিন প্রতিনিধিদলে আরও থাকছেন:
- স্টিভ উইটকফ (প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত)
- জারেড কুশনার (প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা)
- ব্র্যাড কুপার (মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম-এর কমান্ডার)
যেখান থেকে সংকটের শুরু
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা চালালে এর জবাবে বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ 'হরমুজ প্রণালি' বন্ধ করে দেয় তেহরান। পরবর্তীতে এই পথটি পুনরায় চালুর জন্য তেহরানকে একটি নির্দিষ্ট ডেডলাইন বা সময়সীমা বেঁধে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সংসদে ‘গণবিরোধী’ বিল । বিরোধী দলের ওয়াকআউট
সেই চরমপত্রের সময় শেষ হওয়ার মাত্র এক ঘণ্টা আগে, গত বুধবার দুই দেশ ১৪ দিনের বা দুই সপ্তাহের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। পাকিস্তানের সফল মধ্যস্থতার ধারাবাহিকতাতেই শনিবার সকালে দুই পরাশক্তির এই মেগা বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
মোঃ রাজু আহমেদ
কোন মন্তব্য নেই