পাম্পে ফিরল স্বস্তি | উৎসবের ছুটিতে মহানগরের জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতে ভিড় তলানিতে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯ মার্চ ২০২৬,

পেট্রোল পাম্পের খবর, ঢাকার ফিলিং স্টেশন, অকটেন ডিজেল বিক্রি, জ্বালানি তেলের দাম, ঈদের ছুটিতে ঢাকার অবস্থা, তেলের পাম্পে ভিড়, আসাদগেট ফিলিং স্টেশন, বিজয় সরণি পেট্রোল পাম্প, তেলের মজুত, জ্বালানি তেল সরবরাহ, জ্বালানি সংকট বাংলাদেশ, fuel pump dhaka, octane diesel supply bd.

ঈদের ছুটিতে ঢাকার পেট্রোল পাম্পগুলোতে কমেছে গাড়ির ভিড় ও ভোগান্তি। রাজধানীর বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ সারি ছাড়াই মিলছে অকটেন ও ডিজেল। বিস্তারিত জানুন।

ঈদুল ফিতরের টানা বন্ধে অনেকটাই পাল্টে গেছে মহানগরের চেনা দৃশ্যপট। গত মঙ্গলবার থেকে এই ছুটি কার্যকর হওয়ায় রাজপথে গাড়ির আনাগোনা একেবারেই কমে এসেছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে শহরের জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতেও। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বেশিরভাগ পেট্রোল পাম্পে তেল নেওয়ার জন্য চালকদের আগের মতো ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে দেখা যায়নি। তবে ডিপো থেকে সময়মতো চালান না আসায় দু-একটি জায়গায় সেবা প্রদান সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

ভোগান্তিহীন পাঁচ পাম্পের চিত্র

দুপুর ১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টার মাঝে মিরপুর, আগারগাঁও, কল্যাণপুর, শ্যামলী, আসাদগেট এবং বিজয় সরণি এলাকার মোট দশটি পেট্রোল পাম্প ঘুরে এমন স্বস্তিদায়ক পরিবেশ চোখে পড়ে। এর মধ্যে সাতটিতে নিরবচ্ছিন্নভাবে তেল সরবরাহ চলছিল, আর তিনটি ছিল বন্ধ।

শেওড়াপাড়ার ‘সোবহান’, তালতলার ‘হাসান’, কল্যাণপুরের ‘সোহরাব’ ও ‘খালেক’ এবং আসাদগেটের ‘সোনারবাংলা’—এই পাঁচটি পাম্পে ক্রেতাদের কোনো জটলা ছিল না। অথচ রেশনিং চালুর পর এসব স্থানেই আধা কিলোমিটার থেকে এক কিলোমিটার লম্বা গাড়ির বহর দেখা গিয়েছিল।

দুপুর দেড়টায় সোবহান সার্ভিস স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, একটি পংক্তিতে মাত্র পাঁচটি ব্যক্তিগত গাড়ি এবং দুটি সারিতে ১৩টি মোটরবাইক দাঁড়িয়ে আছে। এখানকার কর্মী মোহাম্মদ রাব্বি জানান, সকাল থেকেই ক্রেতাদের ভিড় বেশ কম। উৎসবের ছুটির পাশাপাশি চাহিদামতো তেল নেওয়ার সরকারি সুযোগ থাকাতেই মূলত মানুষের এই চরম ভোগান্তি দূর হয়েছে।

অদূরেই হাসান পাম্পের চিত্রও প্রায় অভিন্ন। সেখানে মাত্র সাতটি প্রাইভেট কার, ১৫-২০টি মোটরসাইকেল ও তিনটি ডিজেলচালিত লেগুনা চোখে পড়ে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক সুজন মিয়া জানান, আগের দিন রাত তিনটায় মজুত ফুরিয়ে যাওয়ায় সকালে কিছুক্ষণ বিক্রি বন্ধ রাখতে হয়েছিল। তবে দুপুর সাড়ে ১২টায় পুনরায় কার্যক্রম চালুর পর থেকে বাইকাররা সর্বোচ্চ পাঁচ থেকে সাত মিনিটেই তাদের প্রয়োজনীয় তেল নিয়ে ফিরে যেতে পারছেন।

তুলনামূলক ব্যস্ত দুটি কেন্দ্র

বেশিরভাগ জায়গা যানজটমুক্ত হলেও আসাদগেটের তালুকদার এবং বিজয় সরণির ট্রাস্ট পাম্পে কিছুটা ভিন্নতা দেখা যায়। বিকেল ৩টায় ট্রাস্ট পাম্পে ৩৯টি প্রাইভেট কারের একটি সারি উত্তরের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত থাকতে দেখা যায়। সঙ্গে ছিল শতাধিক বাইকার। রাইড শেয়ারিং চালক সিয়াম হোসেন জানান, সোমবার পুরো এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ট্যাঙ্ক ফুল করেছিলেন তিনি। মাঝে দুদিন আর পাম্পমুখো হননি, আজ এসে প্রায় ২০ মিনিট যাবত অপেক্ষার প্রহর গুনছেন।

অন্যদিকে, পৌনে ৩টার দিকে তালুকদার পাম্পে ২৬টি গাড়ি ও অর্ধশতাধিক বাইকের উপস্থিতি দেখা যায়। কিছুদিন আগেও এই ভিড় জুলাই স্মৃতি জাদুঘর (সাবেক গণভবন) ও লেক ড্রাইভ সড়ক পেরিয়ে বিজয় সরণিতে গিয়ে ঠেকত। অপেক্ষমাণ কারচালক মুন্না মিয়া জানান, ১৫ মিনিট পার করেছেন, হয়তো কাঙ্ক্ষিত তেলের জন্য আরও ১০-১৫ মিনিট লাগতে পারে।

তিনটি কেন্দ্রে সরবরাহ স্থগিত

এদিকে, শেওড়াপাড়ার এ এস, শ্যামলীর সাহিল এবং কল্যাণপুরের কমফোর্ট—এই তিনটি কেন্দ্রে দুপুরে কার্যক্রম স্থগিত দেখা যায়। সাহিল পাম্পের কর্মী মো. শামীম জানান, সোয়া ২টা পর্যন্ত সেবা দেওয়ার পর তারা সাময়িকভাবে তা বন্ধ রেখেছেন। বর্তমানে মজুতের পরিমাণ যাচাই চলছে; ট্যাংকে পর্যাপ্ত তেল মিললে ইফতারের পর পুনরায় বিক্রি শুরু হবে।

পেছনের গল্প

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় দেশের ভেতরেও চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। সাধারণ ক্রেতারা স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ হারে তেল কেনা শুরু করলে গত ৬ মার্চ বাধ্য হয়ে জ্বালানি বিক্রিতে নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেয় সরকার। এতে প্রতিটি পাম্পেই তৈরি হয় তীব্র জটলা। পরবর্তীতে, ঈদযাত্রীদের দুর্ভোগ এড়াতে এবং কৃষকদের সেচ কাজের সুবিধার্থে গত ১৫ মার্চ থেকে সেই বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

রাজু আহমেদ


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.