মধ্যপ্রাচ্যে ৪ মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ জুলাই ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতের চারটি মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরান। হামলায় সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের দাবি আইআরজিসির।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত চারটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির দাবি অনুযায়ী, অভিযানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নুর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করেছে। তাদের ভাষ্য, অঞ্চলে অবস্থানরত শত্রুপক্ষের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ব্যাপক পরিসরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
এক সামরিক কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় এ হামলা চালানো হয়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণের পর নির্ধারিত স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
আইআরজিসির তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের প্রথম ধাপে জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এতে ঘাঁটির কয়েকটি জ্বালানি সংরক্ষণাগার এবং গোলাবারুদের ডিপোতে আগুন ধরে যায় বলে দাবি করেছে বাহিনীটি।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের উপকূলীয় সামরিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব হিসেবেই এই প্রতিশোধমূলক অভিযান শুরু হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজ থামাতে আইআরজিসি নৌবাহিনী অভিযান পরিচালনার পর যুক্তরাষ্ট্র প্রথম হামলা চালায়। এরপর থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। জাহাজ দুটির বিরুদ্ধে ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ রাখা, অবৈধভাবে চলাচল এবং নৌ চলাচলে ঝুঁকি তৈরির অভিযোগ আনা হয়েছিল।
এরপর অভিযানের দ্বিতীয় ধাপে বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটির বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলার কথা জানায় আইআরজিসি। বাহিনীটির দাবি, তাদের মহাকাশ বাহিনী হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, একটি পি–৮ বিমান সংরক্ষণ হ্যাঙ্গার এবং মার্কিন সামরিক ড্রোনের কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারকে লক্ষ্য করে আঘাত হানে।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটির জ্বালানি ট্যাঙ্ক ও প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। একই সঙ্গে আহমেদ আল-জাবের বিমানঘাঁটির একটি কৌশলগত এফপিএস রাডার ব্যবস্থাও ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
আরো পড়ুন,
- হরমুজে হামলা বন্ধে ইরানকে চাপ যুক্তরাষ্ট্রের
- বন্যার শুরু থেকেই নজরে চট্টগ্রাম
- লোক সভায় তৃণমূলে ভাঙন, ২০ সাংসদের আলাদা ব্লকের দাবি
এদিকে কুয়েতে বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। দেশটির সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, আকাশসীমায় প্রবেশ করা শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তু প্রতিহত করতে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের ফলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। একই সঙ্গে নাগরিকদের নিরাপত্তাবিষয়ক নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, তাদের প্রতিশোধমূলক অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে এবং এ সংক্রান্ত আরও বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
সূত্র: আল জাজিরা

কোন মন্তব্য নেই