হরমুজে হামলা বন্ধে ইরানকে চাপ যুক্তরাষ্ট্রের
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানের কাছ থেকে নতুন করে প্রকাশ্য অঙ্গীকার চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। ওমানে শনিবার অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে ওয়াশিংটনের মূল প্রত্যাশা, তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেবে যে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো হবে না।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক জাহাজে হামলার ঘটনাকে ভুল হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের কাছে স্বীকার করেছে ইরান। তবে তেহরানের দাবি, হামলার পেছনে সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা একটি অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠী জড়িত ছিল।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, চলতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হলেও উভয় দেশ আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউসের মূল্যায়ন, সাম্প্রতিক হামলা জুনে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত ভঙ্গের শামিল।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেন, যুদ্ধবিরতির ক্ষেত্রে ইরান তাদের অঙ্গীকার অক্ষুণ্ন রেখেছে। তাঁর অভিযোগ, চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত জুনে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সিবিএস নিউজের খবরে মার্কিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, ইরান জানিয়েছে দেশটির কট্টরপন্থীদের একটি অংশ আলোচনা ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালিয়েছিল।
আরো পড়ুন,
- বন্যার শুরু থেকেই নজরে চট্টগ্রাম
- লোক সভায় তৃণমূলে ভাঙন, ২০ সাংসদের আলাদা ব্লকের দাবি
- সুইস ম্যাচে আর্জেন্টিনার একাদশে কী চমক?
এক মার্কিন কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে বলেন, ইরান আলোচনায় ফিরে এসে জানিয়েছে, ‘আমরা ভুল করেছি। চলুন, আলোচনা চালিয়ে যাই।’
ওমানে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের। ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
শুক্রবার মার্কিন কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের জানান, আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানের কাছে একটি বার্তা পাঠানো হয়েছে। সেখানে ইরানকে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিতে বলা হয়েছে যে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রয়েছে এবং তারা আর কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালাবে না।
এছাড়া হোয়াইট হাউস চায়, সাম্প্রতিক হামলাকে ভুল হিসেবে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করুক।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা কমানো এবং নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে শুক্রবার কাতারের একটি প্রতিনিধিদল ইরান সফর করেছে।
একই দিনে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান আবারও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং ওয়াশিংটন তাতে সম্মতি দিয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে আগের যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে।
সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পর শুক্রবার নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি। তবে গত সোমবার ওমানের জলসীমায় হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়। জুনে অন্তর্বর্তী চুক্তি স্বাক্ষরের পর এটিই ছিল দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংঘর্ষ।
ইরান বারবার বলছে, বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে তাদের নির্ধারিত নৌপথ ব্যবহার করেই হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে হবে।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ দীর্ঘায়িত করা এবং সব ধরনের সংঘাতের অবসান ঘটানো। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ প্রশাসন ও নৌ পরিষেবা পরিচালনার বিষয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের সঙ্গে ইরান ও ওমানের আলোচনার বিষয়টিও ওই সমঝোতার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই