হামে শিশুমৃত্যু বাড়ছে
বাংলাদেশে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে হাম। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই মারা যাচ্ছে বহু শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক চিত্র। জানুন বিস্তারিত।
দেশে হামের ভয়াবহ বিস্তারে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছে অল্প বয়সী শিশুরা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই মারা যাচ্ছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি এখন উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এমআইএসের সংগ্রহ করা ৬০ শিশুর মৃত্যুর তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে অনেকের বয়স তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই। এমনকি ১৯ দিন ও ২৪ দিনের নবজাতকের শরীরেও হাম শনাক্ত হয়েছে। আগে ধারণা ছিল, জন্মের পর মায়ের শরীর থেকে পাওয়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও বুকের দুধ নবজাতককে কিছুটা সুরক্ষা দেয়। কিন্তু চলমান সংক্রমণে সেই ধারণা অনেকটাই ভেঙে পড়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ জন এবং পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত আরও ৩ জন মারা গেছে। ফলে এক দিনে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ৯ জনে। গত ১৫ মার্চ থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৩৫৬ জন এবং নিশ্চিত হামে ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মোট ৪২৪ জনের মৃত্যুই হামের সঙ্গে সম্পর্কিত।
বয়সভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে, তিন থেকে আট মাস বয়সী ২৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ মৃত শিশুদের একটি বড় অংশ এমন বয়সের, যখন নিয়ম অনুযায়ী তাদের টিকা নেওয়ার সময় এখনো হয়নি। এছাড়া ৯ থেকে ১৫ মাস বয়সী ২১ শিশুর প্রাণ গেছে। ১৬ মাস থেকে দুই বছর বয়সী দুই শিশু এবং দুই থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সাত শিশুর মৃত্যুর তথ্যও পাওয়া গেছে। ঢাকার একটি হাসপাতালে চাঁদপুরের ৯ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুও নথিভুক্ত হয়েছে।
মৃত শিশুদের মধ্যে ছেলে ৩১ জন এবং মেয়ে ২৯ জন। তবে তারা টিকা নিয়েছিল কি না, সে বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর মৃত্যুর সময় বিশ্লেষণেও পাওয়া গেছে উদ্বেগজনক চিত্র। পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে ভর্তি হওয়ার দিনেই। আরও ৯ জন মারা গেছে এক দিনের মধ্যে এবং আরও ৯ জন দুই দিনের মধ্যে প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ মোট ২৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হাসপাতালে আসার প্রথম ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ৪০ শতাংশ।
অন্যদিকে ১০ দিন বা তার বেশি সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছে ১৭ শিশু। একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে ভর্তি হওয়ার ৩৭ দিন পরে।
সবচেয়ে বেশি শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে ১৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যাদের অধিকাংশই ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছিল। এরপর বেশি মৃত্যু হয়েছে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে। বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সবচেয়ে বেশি ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
নিজের বিজনেস অনলাইনে নিতে চান? একটি প্রফেশনাল ওয়েবসাইট এখন খুবই জরুরি! ডোমেইন + হোস্টিং এ পাচ্ছেন বিশাল ডিসকাউন্ট লিংকে ক্লিক করে অফারটি নিয়ে নিন এখনই
৬০ শিশুর মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৮ শিশু ছিল ঢাকা জেলার বাসিন্দা। আর দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে রাজধানীতে এনে চিকিৎসা করানোর পর মারা গেছে আরও ৩০ শিশু। ফলে ঢাকার হাসপাতালগুলোতেই মোট ৪৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে হামে মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়ে আসছেন জনস্বাস্থ্যবিদ ও সাংবাদিকেরা। কিন্তু বর্তমান তথ্যভান্ডারে এখনো অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ঘাটতি রয়েছে। শিশুরা আগে কোথাও চিকিৎসা নিয়েছিল কি না, আইসিইউতে ছিল কি না কিংবা টিকা পেয়েছিল কি না—এসব বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য সংরক্ষণ করা হয়নি।
দাম্পত্য সহবাসের ধরন ও প্রয়োজনীয় তথ্য
সরকারের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক ও জনস্বাস্থ্যবিদ অধ্যাপক বে-নজীর আহমেদ বলেছেন, টিকা–সংক্রান্ত তথ্য অনুপস্থিত থাকা অত্যন্ত হতাশাজনক। তাঁর মতে, অন্তত ৩১ শিশুর টিকা পাওয়ার বয়স হয়েছিল। তারা টিকা নিয়েছিল কি না, পূর্ণ ডোজ সম্পন্ন হয়েছিল কি না কিংবা টিকা নেওয়ার পরও কেন মৃত্যু হলো—এসব বিশ্লেষণ করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ ছাড়া প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝা সম্ভব নয়। তাই শিশুমৃত্যুর প্রতিটি ঘটনা বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

কোন মন্তব্য নেই