আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে গিয়ে কি ফুরিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারসেপ্টর মজুত? পেন্টাগনের সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের ঝুঁকি নিয়ে জানুন বিস্তারিত।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন বাহিনীর মধ্যকার সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কতদিন সচল থাকবে, তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিনে ইরানের ছোঁড়া কয়েকশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে গিয়ে পেন্টাগনের ‘ইন্টারসেপ্টর’ বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক মজুতে টান পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সাফল্যের আড়ালে গভীর শঙ্কা
সোমবার মার্কিন জেনারেল ড্যান কেইন জানান, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনী ও তাদের মিত্রদের ওপর ইরানের চালানো ব্যাপক হামলা সফলভাবে ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্রকে অত্যন্ত উন্নত ও দুষ্প্রাপ্য ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করতে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আকাশ প্রতিরক্ষার এই সাফল্য মূলত একটি ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া, যা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
স্টিমসন সেন্টারের জ্যেষ্ঠ ফেলো কেলি গ্রিয়েকো এই পরিস্থিতিকে একটি ‘অসম প্রতিযোগিতা’ হিসেবে দেখছেন। তার মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের ভাণ্ডার শেষ হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারসেপ্টর ফুরিয়ে যাওয়ার একটি প্রবল ঝুঁকি রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্য বলছে, ইরানের কাছে প্রায় ২,৫০০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা কি না যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্মিলিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতার চেয়েও বেশি হতে পারে।
সময় বনাম সক্ষমতার লড়াই
যুদ্ধ কতদিন চলবে, সেটিই এখন ইন্টারসেপ্টরের চাহিদার মূল নিয়ামক। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তারা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দ্রুত এগোচ্ছেন। তিনি বলেন, "প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী আমরা চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের কথা ভেবেছিলাম, তবে এর চেয়ে বেশি সময় লড়াই করার সক্ষমতা আমাদের আছে।"
পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথও যুদ্ধের সময়সীমা নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছেন। তার মতে, পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এটি দুই সপ্তাহ থেকে শুরু করে ছয় সপ্তাহ বা তার বেশি স্থায়ী হতে পারে।
বৈশ্বিক সংকটের হাতছানি
অ্যাটলান্টিক কাউন্সিলের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ জো কোস্টা সতর্ক করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত কেবল এই অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। চীন বা অন্যান্য কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের যে সামরিক অগ্রাধিকার রয়েছে, ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতি সেখানেও প্রভাব ফেলতে পারে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো উৎপাদন সক্ষমতা। কেলি গ্রিয়েকোর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যে গতিতে ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করছে, কারখানাগুলো সেই গতিতে নতুন করে তা উৎপাদন করতে পারছে না। ফলে ইউরোপ থেকে ইন্দো-প্যাসিফিক—সবখানেই প্রতিরক্ষা লঞ্চারের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই মুহূর্তে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব চেষ্টা করছে ইরানের উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করে দিতে, যাতে আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর ওপর চাপ কমানো যায়। শেষ পর্যন্ত এই সমরাস্ত্রের যুদ্ধে কার মজুত আগে শেষ হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

কোন মন্তব্য নেই: