চুক্তি না মানলে ফের সামরিক পদক্ষেপ, ইরানকে সতর্কবার্তা যুক্তরাষ্ট্রের
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২০ পিএম
ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে ফের সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। হরমুজ প্রণালিতে নৌ নিয়ন্ত্রণ, ইরানের ওপর অবরোধ এবং সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত—বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করছে এই পরিস্থিতি।
ইরান কোনো সমঝোতায় না এলে আবারও সামরিক অভিযানে যেতে প্রস্তুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসি-তে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এই অবস্থান স্পষ্ট করেন।
ব্রিফিংয়ে হেগসেথ বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতির ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে এবং প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তার ভাষায়, “চুক্তিতে না এলে সামরিক বিকল্পও খোলা রয়েছে।”
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নজরদারি
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী সক্রিয়ভাবে তদারকি করছে। তার দাবি, ইরানের কার্যকর নৌ সক্ষমতা না থাকায় এই জলপথে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত এই প্রণালি সচল রাখতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতাও স্বাগত জানাবে ওয়াশিংটন।
অবরোধ কৌশলে চাপ বৃদ্ধি
হেগসেথ আরও বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী ইরানের ওপর নৌ অবরোধ বহাল থাকবে। ইরানে প্রবেশ ও সেখান থেকে বের হওয়া জাহাজগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে তেহরানের ওপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে বাধ্য করা—এমনটাই ইঙ্গিত দেন তিনি।
চীনের প্রতিশ্রুতি
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দাবি, চীন যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে যে যুদ্ধবিরতির সময় তারা ইরানে কোনো ধরনের অস্ত্র সরবরাহ করবে না। বিষয়টিকে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন।
আরো পড়ুন,
হরমুজ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের কড়া বার্তা
নেতৃত্ব নিয়ে ইঙ্গিত
এ সময় তিনি বলেন, ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে তিনি এখনো জীবিত রয়েছেন।
শেষবার্তা তেহরানের উদ্দেশে
ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে হেগসেথ বলেন, দেশটি চাইলে সমৃদ্ধি ও সহযোগিতার পথে এগোতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে দেন, ভুল সিদ্ধান্ত নিলে দেশটির অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।
তার এই বক্তব্যকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার নতুন মাত্রা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা, যা ভবিষ্যতে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।


কোন মন্তব্য নেই