Header Ads

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ‘শাহেদ’ আতঙ্ক: ৪৮ ঘণ্টায় হাজারো ড্রোন হামলা

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ, শাহেদ ড্রোন, Shahed 136, ইরান ড্রোন হামলা, ৪৮ ঘণ্টায় ড্রোন হামলা, ইরান ইসরায়েল উত্তেজনা, উপসাগরীয় নিরাপত্তা সংকট, কামিকাজি ড্রোন, Middle East drone attack, Iran drone strike news, Israel Iran conflict, Gulf region tension, সামরিক উত্তেজনা ২০২৬, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংকট

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরান-সমর্থিত ‘শাহেদ’ কামিকাজি ড্রোনের ভয়াবহ হামলা। টানা ৪৮ ঘণ্টায় হাজারো ড্রোন আক্রমণে উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম উত্তেজনা ও নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়েছে। ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের সর্বশেষ আপডেট ও বিশ্লেষণ জানুন এখানে।

ইউক্রেনের রণাঙ্গন কাঁপানোর পর ইরানের কুখ্যাত ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোন এখন মধ্যপ্রাচ্যের বুকে আতঙ্কের সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইঞ্জিনের সেই পরিচিত কর্কশ গর্জন এখন শোনা যাচ্ছে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর আকাশে। গত ৪৮ ঘণ্টায় বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো মার্কিন মিত্রদেশগুলোর ওপর আছড়ে পড়েছে শত শত ড্রোন। ৫০ হাজার ডলারের এই সস্তা মারণাস্ত্র ব্যবহার করে তেহরান মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের স্নায়ুর ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছে।

উপসাগরীয় আকাশে ড্রোনের ঢল

গত শনিবার ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তেহরান তার প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। গত কয়েক দিনে এক হাজারের বেশি ড্রোন ছোড়া হয়েছে, যার সিংহভাগই শাহেদ-১৩৬ মডেলের বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সোমবার বিকেলে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে পাওয়া তথ্যে হামলার ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়। দেশটি জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় ৬৮৯টি ড্রোন প্রবেশ করে। এর মধ্যে ৬৪৫টি ভূপাতিত করা সম্ভব হলেও, ৪৪টি ড্রোন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়। শতকরা হিসেবে আঘাতের এই হার ৬ ভাগের বেশি।

ভিডিও ফুটেজে ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র

বাহরাইন থেকে আসা ভিডিও ফুটেজগুলোতে হামলার ভয়াবহ চিত্র ধরা পড়েছে। রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে ‘লনমাওয়ার’ বা ঘাস কাটার যন্ত্রের মতো বিকট শব্দে একটি ডেল্টা-উইং ড্রোনকে একটি বহুতল ভবনের দিকে ধেয়ে আসতে দেখা যায়। প্রচণ্ড বিস্ফোরণের পর ভবনের ব্যালকনি থেকে জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ নিচে খসে পড়ে।

অপর একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের সদর দপ্তরের ওপর দিয়ে উড়ে গিয়ে একটি ড্রোন নির্ভুলভাবে একটি রাডার ডোম ধ্বংস করে দিচ্ছে। এছাড়া সাইপ্রাসের আক্রোতিরিতে ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি এবং কুয়েতেও এই ড্রোনের উপস্থিতির খবর পাওয়া গেছে।

সস্তা কিন্তু বিধ্বংসী

শাহেদ-১৩৬ এর দৈর্ঘ্য ৩.৫ মিটার এবং এটি ৫০ কেজি বিস্ফোরক বহন করতে পারে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় এটি তৈরি করা অনেক সহজ ও সাশ্রয়ী। যদিও এটি আকাশচুম্বী ভবন ধসিয়ে দেওয়ার মতো শক্তিশালী নয়, তবুও এর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব মারাত্মক। রাডার ফাঁকি দিতে এটি মাটির খুব কাছ দিয়ে ওড়ে এবং প্রয়োজনে অপারেটর দ্বারা শেষ মুহূর্তেও এর গতিপথ পরিবর্তন করা যায়। এর পাল্লা প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার।

ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা ও জ্বালানি নিরাপত্তা

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া এই ড্রোন ব্যবহার করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো তছনছ করে দিয়েছে। রাশিয়ায় বর্তমানে এই ড্রোন ‘ইয়েলাবুগা’ কারখানায় তৈরি হচ্ছে। ইউক্রেনে সাধারণত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতে ঝাঁকে ঝাঁকে (Swarm) ড্রোন ছোড়া হয়। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ফুটেজে দেখা গেছে, ড্রোনগুলো বিচ্ছিন্নভাবে বা এককভাবে আঘাত হানছে।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ইরান যদি ইউক্রেনের মতো জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালায়, তবে তা ভয়াবহ হবে। সোমবার সকালেই সৌদি আরবের অন্যতম বৃহৎ শোধনাগার রাস তানুরায় হামলার কারণে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। সেখানে শাহেদ ড্রোন ব্যবহৃত হয়েছে কি না তা নিশ্চিত না হলেও, ধ্বংসযজ্ঞের ধরন একই রকম।

ইরানের ‘শাহেদ এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিজ’ নকশা করা এই ড্রোন প্রথম আলোচনায় আসে ২০১৯ সালে সৌদি তেলক্ষেত্র এবং ২০২১ সালে ইসরায়েলি জাহাজে হামলার মাধ্যমে। এখন সেই একই প্রযুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.