স্পোর্টস ডেস্ক:
বুলাওয়ের আকাশে তিনবার মেঘের গর্জন শোনা গিয়েছিল, কিন্তু দিনশেষে সেই মেঘ বাংলাদেশের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে এলো। ভারতের বিপক্ষে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের লড়াইয়ে জয়ের জন্য সব সমীকরণ যখন টাইগারদের পক্ষেই ছিল, তখনই শুরু হলো অবিশ্বাস্য এক ব্যাটিং বিপর্যয়। হাতের মুঠোয় থাকা ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ৪০ রানের নাটকীয় ব্যবধানে হাতছাড়া করল বাংলাদেশের যুবারা।
আরো পড়ুন,
- খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় ‘ইচ্ছাকৃত অবহেলা’: অধ্যাপক সিদ্দিকী
- কারওয়ান বাজার দখলে বিদেশে বসে খুনের নকশা: ১৫ লাখে ভাড়াটে খুনি দিয়ে মোছাব্বির হত্যা
- শুক্রবার খালেদা জিয়ার নাগরিক শোকসভায় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি সরকারের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন
- লেদা জিয়ার বিদায়ে শোকার্ত শাহবাজ শরিফ
এক নজরে ভারতের ইনিংস ও রেকর্ড
প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দল সব উইকেট হারিয়ে ২৩৮ রান সংগ্রহ করে। তবে এই ইনিংসটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে বৈভব সূর্যবংশীর কারণে। মাত্র ১৪ বছর ২৯৬ দিন বয়সে হাফ-সেঞ্চুরি করে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েন তিনি। ৭২ রানের ইনিংস খেলেন তিনি, আর অভিজ্ঞান কুণ্ডু করেন ৮০ রান। বাংলাদেশের পক্ষে বল হাতে আগুন ঝরিয়েছেন আল ফাহাদ, মাত্র ৩৮ রান দিয়ে তিনি শিকার করেন ৫ উইকেট।
বৃষ্টির হিসাব ও ভাগ্যের পরিহাস
বৃষ্টির কারণে খেলা ২৯ ওভারে নামিয়ে আনা হলে বাংলাদেশের নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৬৫ রান। ১৭.২ ওভারে ৯০ রান তুলেই ২ উইকেট হারানো বাংলাদেশ তখন বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল। ২০ ওভার শেষে ডিএলএস নিয়মে বাংলাদেশ ১৪ রানে এগিয়ে থাকলেও এরপরই নামে ধস। অধিনায়ক আজিজুল হাকিম ৫১ রান করে আউট হওয়ার পর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে মিডল অর্ডার।
অবিশ্বাস্য ধস ও পরাজয়
জয়ের জন্য ৩০ বলে যখন মাত্র ৪০ রান প্রয়োজন, হাতে তখনও ৬ উইকেট—সেই পরিস্থিতি থেকে মাত্র ৪৩ বলের ব্যবধানে বাংলাদেশ অলআউট হয়ে যায় ১৪৬ রানে। বড় শট খেলতে গিয়ে খেই হারান ব্যাটাররা। ভারতের বিহান মালহোত্রা মাত্র ১৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ধসিয়ে দেন বাংলাদেশের টেল-এন্ডারদের।
টসের বিতর্ক ও বিসিবির ব্যাখ্যা
ম্যাচের শুরুতে টসের সময় বাংলাদেশ দলের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক জাওয়াদ আবরার ও ভারত অধিনায়কের করমর্দন না করা নিয়ে গুঞ্জন উঠলে বিসিবি দ্রুত তা স্পষ্ট করে। সংস্থাটি জানায়, এটি ছিল সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত এবং অসাবধানতাবশত একটি ঘটনা। প্রতিপক্ষকে অসম্মান করার কোনো লক্ষ্যই তাদের ছিল না। ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়রাই সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে হাত মিলিয়ে মাঠ ছাড়েন।
মোঃ রাফি
কোন মন্তব্য নেই: