সীতাকুণ্ডে র্যাব কর্মকর্তার মৃত্যু | জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে রক্তক্ষয়ী হামলা
চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাব কর্মকর্তা আব্দুল মোতালেব নিহত হয়েছেন। আহত আরও ৩ জন। বিস্তারিত পড়ুন।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল সলিমপুরে অস্ত্র উদ্ধারে গিয়ে সন্ত্রাসীদের নৃশংস হামলার শিকার হয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। সোমবার সন্ধ্যার এই হামলায় আব্দুল মোতালেব নামে র্যাবের এক উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) প্রাণ হারিয়েছেন। এ সময় আরও তিন সদস্য গুরুতর জখম হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
যেভাবে হামলার শিকার হলো র্যাব
র্যাব-৭ সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে সোমবার সন্ধ্যায় জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে যায় একটি দল। সেখানে ওঁত পেতে থাকা সশস্ত্র অপরাধীরা র্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে আচমকা গুলিবর্ষণ শুরু করে। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা র্যাব সদস্যদের ঘিরে ফেলে এবং কয়েকজনকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। চট্টগ্রামে র্যাবের সহকারী পরিচালক এআরএম মোজাফফর হোসেন জানান, হামলায় চারজন সদস্য মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন। দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও ডিএডি আব্দুল মোতালেব শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
আরো পড়ুন,
- জয়ের কাছে গিয়েও পথ হারাল বাংলাদেশ: ৪০ রানেই শেষ ৮ উইকেট!
- সবই চলছে আগের পুরোনো কায়দাতে
- খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় ‘ইচ্ছাকৃত অবহেলা’: অধ্যাপক সিদ্দিকী
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ রাত আটটার দিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সন্ত্রাসীদের সঙ্গে এই সংঘাত চলাকালীন র্যাবের ওই কর্মকর্তা শহীদ হয়েছেন।
এক ‘নিষিদ্ধ রাজ্যের’ গল্প
চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী সংলগ্ন ৩ হাজার ১০০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই জঙ্গল সলিমপুর। গত চার দশক ধরে এখানে গড়ে উঠেছে পাহাড় কাটা ও প্লট বাণিজ্যের এক বিশাল সিন্ডিকেট। এলাকাটি কার্যত অপরাধীদের এক দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত হয়েছে। এখানে ঢুকতে হলে প্রয়োজন হয় সন্ত্রাসীদের দেওয়া বিশেষ ‘পরিচয়পত্র’। এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও সেখানে প্রবেশ করতে গেলে বারবার বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। গত ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে এই জনপদটির দখল নিতে একাধিক পক্ষের মধ্যে সংঘাত ও রক্তপাত নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রশাসনের ওপর বারবার হামলা
জঙ্গল সলিমপুরে এটিই প্রথম কোনো বড় হামলা নয়। এর আগে ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর পাহাড় থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ফেরার পথে ম্যাজিস্ট্রেট ও ওসিসহ অন্তত ২০ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হামলার শিকার হয়েছিলেন। ২০২২ সালেও র্যাবের ওপর গুলিবর্ষণ এবং উচ্ছেদ অভিযানে আসা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের গতিরোধ করার একাধিক নজির রয়েছে। সম্প্রতি এক সংবাদকর্মীর ওপরও সন্ত্রাসীরা অমানবিক নির্যাতন চালায় বলে জানা গেছে।
মূলত সরকারি পাহাড় দখল করে গড়ে তোলা এই বিশাল অবৈধ সাম্রাজ্য রক্ষা করতে সন্ত্রাসীরা সেখানে নিজস্ব সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলেছে। সোমবারের এই হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং জড়িতদের ধরতে ব্যাপক অভিযান শুরু হয়েছে।
কোন মন্তব্য নেই