Header Ads

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় ‘ইচ্ছাকৃত অবহেলা’: অধ্যাপক সিদ্দিকী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | 

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা, অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী, ইচ্ছাকৃত অবহেলা, লিভার সিরোসিস, ভুল চিকিৎসা, জাতীয় সংসদ ভবন শোকসভা।
বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় ইচ্ছাকৃত অবহেলার দাবি করেছেন অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী। ভুল ওষুধের প্রয়োগ ও সাধারণ আলট্রাসনোগ্রাম না করার মাধ্যমে তাঁকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। বিস্তারিত পড়ুন প্রতিবেদনে।


সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় চরম গাফিলতি ও ‘ইচ্ছাকৃত অবহেলা’র অভিযোগ তুলেছেন তাঁর ব্যক্তিগত মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী। ভুল চিকিৎসা ও অযত্নের কারণেই তাঁর লিভারের কার্যকারিতা দ্রুত নষ্ট হয়েছে এবং তাঁকে অকাল মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

আরো পড়ুন,

নাজমুলের পদত্যাগ দাবি ক্রিকেটারদের: কাল থেকে খেলা বন্ধের হুঁশিয়ারি
শুক্রবার খালেদা জিয়ার নাগরিক শোকসভায় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি সরকারের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন
গাজীপুরে নাটকীয়তা: রিমান্ডের ৫ ঘণ্টার মাথায় জামিন পেলেন ‘জুলাই যোদ্ধা’ তাহরিমা

আজ শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক শোকসভায় তিনি এ সব বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেন।

‘ভুল ওষুধে’ লিভারের ক্ষতি

অধ্যাপক সিদ্দিকী জানান, ২০২১ সালের এপ্রিলে বর্তমান মেডিক্যাল বোর্ড যখন দায়িত্ব নেয়, তখন তাঁরা দেখেন লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত খালেদা জিয়াকে নিয়মিত ‘মেথোট্রেক্সেট’ নামক একটি ওষুধ দেওয়া হচ্ছিল। তিনি বলেন, “আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত এই ওষুধটি তাঁর ফ্যাটি লিভারের সমস্যাকে মারাত্মক পর্যায়ে নিয়ে যায়। লিভারের জন্য এই ওষুধটি ‘স্লো পয়জন’ বা ধীর গতির বিষের মতো কাজ করেছে। আমরা দায়িত্ব নিয়েই তা বন্ধ করি।”

সহজ পরীক্ষা করতেও অনীহা

শোকসভায় অভিযোগ করা হয়, সরকারি হাসপাতালে থাকাকালীন খালেদা জিয়ার লিভার ফাংশন টেস্টের রিপোর্ট খারাপ আসা সত্ত্বেও চিকিৎসকরা সাধারণ একটি আলট্রাসনোগ্রাম করার প্রয়োজন বোধ করেননি। অধ্যাপক সিদ্দিকী বলেন, বিশেষজ্ঞ না হয়েও যে কেউ বুঝত তাঁর লিভার পরীক্ষা করা জরুরি ছিল। কিন্তু তৎকালীন চিকিৎসকরা সেই ন্যূনতম দায়িত্বটুকুও পালন করেননি। এমনকি আস্থার সংকটে থাকা খালেদা জিয়া যখন সেখানে পরীক্ষা করতে চাননি, তখন তাঁর শয্যাপাশে (POCUS) পরীক্ষার বিকল্প সুযোগ থাকলেও তা গ্রহণ করা হয়নি।

সুপরিকল্পিত অবহেলার অভিযোগ

লিভারের পাশাপাশি তাঁর ডায়াবেটিস ও আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসাতেও চরম অবহেলার প্রমাণ মিলেছে বলে জানান এই চিকিৎসক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই ‘উইলফুল নেগলিজেন্স’ বা ইচ্ছাকৃত অবহেলা কোনো সুদূরপ্রসারী হত্যার পরিকল্পনার অংশ কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।

তদন্তে তিন দফা প্রস্তাব

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা প্রক্রিয়া নিয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত দাবি করে অধ্যাপক সিদ্দিকী তিনটি মৌলিক প্রশ্ন উত্থাপন করেন:
  • সরকারি মেডিক্যাল বোর্ডের চিকিৎসকদের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা কী ছিল এবং তাঁদের ব্যর্থতার দায় কতটুকু?
  • হাসপাতালে থাকাকালীন সরাসরি যুক্ত থাকা চিকিৎসকদের চিকিৎসায় গাফিলতি ছিল কি না?
  • কেন তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সে সময় যুক্ত হতে বাধা দেওয়া হয়েছিল?

বিগত ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাঁর চিকিৎসার সাথে যুক্ত থাকা এই চিকিৎসক আক্ষেপ করে বলেন, আজ মানুষের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের সময় খালেদা জিয়া বেঁচে থাকলে দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হতো।

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.