লন্ডনে সাব-২ ম্যারাথনের নতুন ইতিহাস
খেলা ডেস্ক
আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৫৪
লন্ডন ম্যারাথন ২০২৬-এ ইতিহাস গড়লেন কেনিয়ার সেবাস্টিয়ান সাওয়ে। প্রথমবারের মতো ২ ঘণ্টার নিচে ম্যারাথন শেষ করে ভাঙলেন বিশ্ব রেকর্ড। নারীদের বিভাগেও নতুন রেকর্ড গড়েছেন টিগস্ট আসেফা।
ক্রীড়া জগতের বহুদিনের স্বপ্ন অবশেষে বাস্তবে রূপ নিল লন্ডনে। কেনিয়ার সেবাস্টিয়ান সাওয়ে এমন এক কীর্তি গড়েছেন, যা এতদিন শুধুই কল্পনায় ছিল। লন্ডন ম্যারাথন-এ তিনি ১ ঘণ্টা ৫৯ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে ২ ঘণ্টার বাধা অতিক্রম করলেন এবং স্বর্ণপদক জিতলেন।
এই পারফরম্যান্সে ভেঙে গেছে পূর্বের বিশ্ব রেকর্ডও। কেলভিন কিপটুম ২০২৩ সালে শিকাগোতে ২:০০:৩৫ সময় নিয়ে যে রেকর্ড গড়েছিলেন, সেটিকে সাওয়ে ছাড়িয়ে গেছেন ৬৫ সেকেন্ডে। শুধু বিজয়ীই নন, দৌড়ের দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইয়োমিফ কেজেলচা-ও ১:৫৯:৪১ সময় নিয়ে ২ ঘণ্টার নিচে শেষ করেন। তৃতীয় হওয়া জ্যাকব কিপলিমো ২:০০:২৮ সময় নিয়ে কিপটুমের আগের রেকর্ডকেও পেছনে ফেলেছেন।
আরো পড়ুন,
দ্বিতীয়বারের মতো লন্ডনে জয়ের পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় সাওয়ে জানান, এই সাফল্য তিনি একার বলে মনে করেন না; বরং এটিকে তিনি সবার সম্মিলিত অর্জন হিসেবে দেখছেন।
দৌড়ের কৌশলগত দিক থেকেও ছিল চমক। প্রতিযোগিতার প্রথমাংশে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও শেষদিকে গতি বাড়িয়ে এগিয়ে যান তিনি। বিশেষ করে শেষ কয়েক কিলোমিটারে তার নিয়ন্ত্রণই ফল নির্ধারণ করে দেয়। পুরো ম্যারাথনের দ্বিতীয় অংশ তিনি শেষ করেন মাত্র ৫৯ মিনিট ০১ সেকেন্ডে।
প্রযুক্তির সহায়তায় গতি
এই ঐতিহাসিক দৌড়ে সাওয়ে ব্যবহার করেছেন Adidas-এর তৈরি ‘প্রো ইভো ৩’ সুপার শু, যার ওজন ১০০ গ্রামেরও কম।
এর আগে ২০১৯ সালে এলিউড কিপচোগে ১:৫৯:৪০ সময় নিয়ে দৌড় শেষ করলেও সেটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়নি, কারণ সেই ইভেন্টটি নিয়মিত প্রতিযোগিতার আওতায় ছিল না। সাওয়ের সাফল্যে সেই অপূর্ণতা পূরণ হলো।
নারীদের দৌড়েও নতুন রেকর্ড
পুরুষদের মতো নারীদের প্রতিযোগিতাতেও দেখা গেছে নতুন ইতিহাস। ইথিওপিয়ার টিগস্ট আসেফা ২ ঘণ্টা ১৫ মিনিট ৪১ সেকেন্ড সময় নিয়ে ‘উইমেন্স অনলি’ ম্যারাথনে নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন।
তিনি লড়াইয়ে পেছনে ফেলেছেন কেনিয়ার হেলেন ওবিরি এবং জয়সিলিন জেপকোসগেই-কে। ওবিরি ২:১৫:৫৩ সময় নিয়ে দ্বিতীয় এবং জেপকোসগেই খুব অল্প ব্যবধানে তৃতীয় স্থান দখল করেন।
তবে সামগ্রিকভাবে নারীদের ম্যারাথনের দ্রুততম সময় এখনো ধরে রেখেছেন রুথ চেপনগেটিচ, যিনি শিকাগো ম্যারাথনে ২:০৯:৫৬ সময় নিয়েছিলেন—যেখানে পুরুষ পেসারদের সহায়তা ছিল।
নতুন মানদণ্ডের সূচনা
এ বছরের লন্ডন ম্যারাথন কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং সহনশীলতা ও পারফরম্যান্সের নতুন সীমা নির্ধারণের মঞ্চ হয়ে উঠেছে। সাওয়ের এই অর্জন ভবিষ্যতে ম্যারাথনের মানদণ্ড আরও উঁচুতে নিয়ে যাবে—এমনটাই মনে করছেন ক্রীড়াবিদ ও বিশ্লেষকেরা।
মোঃ রাফি

কোন মন্তব্য নেই