বিএনপির ইশতেহারে ৯ দফা অঙ্গীকার, ফ্যামিলি কার্ড চালুর ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:২৪

BNP manifesto 2026, BNP election manifesto, BNP 9 point promise, BNP family card, Bangladesh election news, BNP latest news, Tarque Rahman speech, Sonargaon Hotel BNP manifesto, BNP promises 2026, Bangladesh politics update, national election Bangladesh, BNP কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড বিএনপি, বিএনপি ইশতেহার, বিএনপি ৯ দফা, বিএনপি নির্বাচন ২০২৬, তারেক রহমান সংবাদ, বাংলাদেশ রাজনীতি খবর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি তাদের ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ড চালুসহ ৯ দফা প্রধান প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছে। সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ইশতেহার উপস্থাপন করেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার উন্মোচন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন।

ঘোষিত ইশতেহারে দেশের অর্থনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, পরিবেশ ও ডিজিটাল উন্নয়নের ওপর ভিত্তি করে মোট নয়টি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়েছে।

ইশতেহারের প্রথম অঙ্গীকার হিসেবে প্রান্তিক ও স্বল্প আয়ের পরিবারকে সহায়তার জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর কথা বলা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা বা সমপরিমাণ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে এই সহায়তার পরিমাণ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে দলটি।

কৃষি খাতের উন্নয়নে ‘কৃষক কার্ড’ ব্যবস্থার মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ শর্তে ঋণ, কৃষিবিমা সুবিধা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় ফসল বাজারজাত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একইসঙ্গে মৎস্যচাষি, পশুপালনকারী ও কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও এই সুবিধা পাবেন।

স্বাস্থ্য খাতে পরিবর্তন আনতে দেশজুড়ে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। জেলা ও মহানগর পর্যায়ে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদারের পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষা ব্যবস্থাকে আনন্দমুখী ও কর্মভিত্তিক করতে বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধকেন্দ্রিক নতুন শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং ‘মিড-ডে মিল’ চালুর কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

তরুণ সমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষা প্রশিক্ষণ, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা সহায়তা এবং মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ ব্যবস্থার অঙ্গীকার করা হয়েছে। পাশাপাশি তরুণদের বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করার কথাও বলা হয়েছে।

ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখনন, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ কর্মসূচি চালুর কথাও রয়েছে ইশতেহারে।

ডিজিটাল অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম পেপাল চালু, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির মতে, এই ইশতেহার কেবল ভোটের প্রতিশ্রুতি নয়; বরং এটি রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে একটি নতুন সামাজিক চুক্তির প্রতিফলন। দলটি জানিয়েছে, তারা প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করতে চায়।

বিএনপি আরও বলেছে, জনগণের সমর্থনে সরকার গঠন করতে পারলে দেশে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে, দুর্নীতি ও বৈষম্য কমবে এবং আইনের শাসন কার্যকর হবে। তখন প্রতিটি নাগরিক গর্বের সঙ্গে বলতে পারবেন—সবার আগে বাংলাদেশ।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.