ফুলতলায় আগুনে পুড়ল জামায়াত সমর্থকের ঘর, অভিযোগ বিএনপি ঘিরে

ফুলতলা আগুন, জামায়াত সমর্থক অগ্নিকাণ্ড, শোকর আকুঞ্জি, বিএনপি অভিযোগ, ঢানের শীষ দাঁড়িপাল্লা সংঘাত, খুলনা রাজনৈতিক সহিংসতা, আটরা-গিলাতলা ইউনিয়ন ঘটনা, রাজনৈতিক দাঙ্গা খুলনা, জামায়াতে ইসলামী ঘটনা

ফুলতলা উপজেলার মশিয়ালী গ্রামের জামায়াত সমর্থক শোকর আকুঞ্জির বাড়িতে শনিবার রাতে আগুনের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ঘর পুড়ে যায়। জামায়াত নেতারা অভিযোগ করেছেন, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কিছু সমর্থক এই আগুন দিয়েছেন। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

খুলনার ফুলতলা উপজেলায় রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে অগ্নিসংযোগের একটি ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এক সমর্থকের বাড়ির লাকড়ি রাখার ঘর পুড়ে যায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং পরদিন দলীয় নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

রাতের আঁধারে অগ্নিকাণ্ড

খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া–ফুলতলা) আসনের ফুলতলা উপজেলার আটরা-গিলাতলা ইউনিয়নর মশিয়ালী গ্রামের আকুঞ্জি পাড়ায় বসবাসকারী শোকর আকুঞ্জির বাড়িতে শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে আগুন লাগে। এতে তাঁর ব্যবহৃত একটি লাকড়ি সংরক্ষণের ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত শোকর আকুঞ্জি দাবি করেন, তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থক হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ধানের শীষের পক্ষের লোকজনের হুমকির মুখে ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, সেই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগানো হয়েছে।

স্থানীয়দের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণ

এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে আগুনের শিখা দেখতে পেয়ে আশপাশের মানুষ দ্রুত এগিয়ে আসেন। পরে কাছের পুকুর থেকে পানি এনে সবাই মিলে আগুন নেভাতে সক্ষম হন। তাদের তাৎক্ষণিক উদ্যোগে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

জামায়াত নেতাদের বক্তব্য

খানজাহান আলী থানা জামায়াতে ইসলামীর আমির সৈয়দ হাসান মাহামুদ (টিটো) জানান, আটরা-গিলাতলা ইউনিয়নের প্রায় ৪০ হাজার ভোটারের মধ্যে ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছে ৯ হাজার ৫৫ ভোট এবং দাঁড়িপাল্লা পেয়েছে ১৮ হাজার ৪৪২ ভোট। তাঁর অভিযোগ, কম ভোট পাওয়ার পর থেকেই দাঁড়িপাল্লার সমর্থকদের ওপর চাপ ও ভয়ভীতি সৃষ্টি করা হচ্ছিল এবং এই অগ্নিসংযোগ সেই ধারাবাহিকতার অংশ।

তিনি বলেন, শোকর আকুঞ্জির বড় ছেলে রমজান আকুঞ্জি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রুকন ও ইউনিট সভাপতি এবং ছোট ছেলে আব্দুর রাজ্জাক বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরর মশিয়ালী ওয়ার্ড সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ঘটনার প্রতিবাদে রোববার বিকেলে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতি

অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন খুলনা জেলা আমির এমরান হুসাইন, জেলা সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সী মইনুল ইসলাম এবং ছাত্রশিবিরের খুলনা জেলা সভাপতি ইউসুফ ফকিরসহ অন্যান্য নেতারা।

পুলিশের তদন্ত

খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার সানওয়ার হোসাইন মাসুম জানান, কারা আগুন দিয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয়দের উদ্যোগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনে একটি লাকড়ির ঘরে থাকা আনুমানিক ৩ থেকে ৪ মণ কাঠ পুড়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে একটি কেরোসিনের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে, তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সিআইডি আলামত সংগ্রহ করেছে। মামলা দায়ের হলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজনৈতিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ

জামায়াত নেতাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ–এর কিছু সমর্থক দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের কর্মী-সমর্থকদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছিলেন। তবে অভিযুক্ত পক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তদন্তের ফলাফলের ওপর পরবর্তী ব্যবস্থা নির্ভর করবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.