কানে জাপানি সিনেমার দাপট
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬,
২০২৬ সালের কান চলচ্চিত্র উৎসবে জাপানের শক্তিশালী উপস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলছে ব্যাপক আলোচনা। হিরোকাজু কোরে-এদার ‘Ship in the Box’, রিউসুকে হামাগুচির ‘All of a Sudden’ এবং কোজি ফুকাদার ‘Nagi Notes’ মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে জায়গা পেয়েছে। প্রযুক্তি, মানবিক আবেগ ও আধুনিক সমাজকে ঘিরে নির্মিত এই সিনেমাগুলো এবারের কানের সবচেয়ে আলোচিত আকর্ষণ হতে পারে।
এবারের কান চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে জায়গা পেয়েছে জাপানের তিনটি সিনেমা। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে ইতোমধ্যেই ছবিগুলো নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও আলোচনা। বিশেষ করে হিরোকাজু কোরে-এদার নতুন সিনেমা ‘শিপ ইন দ্য বক্স’ প্রযুক্তি ও মানবিক আবেগের ভিন্নধর্মী উপস্থাপনার কারণে এবারের উৎসবের অন্যতম আলোচিত সিনেমা হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবগুলোর একটি হিসেবে কানের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। এখানে নির্বাচিত হওয়াই নির্মাতাদের জন্য বড় অর্জন হিসেবে দেখা হয়। কারণ, কানে প্রশংসা পাওয়া সিনেমাগুলো পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক বাজার ও পুরস্কার অঙ্গনেও প্রভাব ফেলে। সেই কারণে প্রতিবছরই এই উৎসব ঘিরে দর্শক, সমালোচক ও সংবাদমাধ্যমের আগ্রহ থাকে তুঙ্গে।
এবার মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে মোট ২২টি সিনেমা নির্বাচিত হয়েছে। এর মধ্যেই সবচেয়ে বেশি কৌতূহল তৈরি করেছে কোরে-এদার ‘শিপ ইন দ্য বক্স’। মানবসদৃশ রোবট ও মানুষের আবেগঘন সম্পর্ককে কেন্দ্র করে তৈরি এই সিনেমা প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ সমাজের এক ভিন্ন বাস্তবতা তুলে ধরবে।
বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ‘হিউমেনয়েড রোবট’ নিয়ে গবেষণা দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে চীন এই প্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখাচ্ছে। সম্প্রতি বেইজিংয়ে আয়োজিত এক হাফ ম্যারাথনে মানুষের পাশাপাশি আলাদা ট্র্যাকে অংশ নেয় কয়েকটি মানবসদৃশ রোবট। ‘লাইটনিং’ নামের একটি রোবট ২১ কিলোমিটার পথ শেষ করে ৫০ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে, যা মানুষের বিশ্ব রেকর্ডের চেয়েও প্রায় সাত মিনিট কম। এই ঘটনাই দেখিয়ে দিয়েছে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি কত দ্রুত বদলে যাচ্ছে।
তবে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের বাইরেও মানুষের অনুভূতি, শূন্যতা ও সম্পর্কের জায়গায় রোবটের প্রভাব কেমন হতে পারে, সেটিই সিনেমার মাধ্যমে তুলে ধরতে চেয়েছেন কোরে-এদা। গল্পে দেখা যাবে, এক দম্পতি তাদের অকালপ্রয়াত সন্তানের আদলে একটি হিউমেনয়েড রোবট তৈরি করে। এরপর সেই যন্ত্রকে ঘিরে তৈরি হয় আবেগ, স্মৃতি ও মানসিক টানাপোড়েনের জটিল সম্পর্ক।
এই সিনেমার চিত্রনাট্যও লিখেছেন কোরে-এদা নিজেই। এর আগে তাঁর ‘শপলিফটার্স’ ২০১৮ সালে কান উৎসবের সর্বোচ্চ সম্মান পাম দ’র অর্জন করেছিল। ফলে নতুন ছবিটি নিয়েও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে অনেক বেশি।
জাপানের আরেক আলোচিত নির্মাতা রিউসুকে হামাগুচিও এবার ফিরছেন মূল প্রতিযোগিতায়। তাঁর নতুন সিনেমা ‘অল অব আ সাডেন’-এ দেখানো হবে প্যারিসের একটি নার্সিং হোমে ক্যানসারে আক্রান্ত এক জাপানি নারী এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালক নারীর মধ্যকার সম্পর্কের গল্প।
হামাগুচি এর আগেও কান উৎসবে প্রশংসা পেয়েছেন। তাঁর ‘ড্রাইভ মাই কার’ ২০২১ সালে মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে জায়গা পাওয়ার পর আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।
মূল প্রতিযোগিতায় জায়গা পাওয়া তৃতীয় জাপানি সিনেমা হলো কোজি ফুকাদার ‘নাগি নোটস’। একসঙ্গে দেশের তিনজন শীর্ষ নির্মাতার সিনেমা প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত হওয়ায় জাপানের চলচ্চিত্র অঙ্গনেও তৈরি হয়েছে বাড়তি উচ্ছ্বাস।
এদিকে মূল প্রতিযোগিতার বাইরেও কানের দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় স্থান পেয়েছে ইউকিকো সোদের ‘অল দ্য লাভার্স ইন দ্য নাইট’। পাশাপাশি কিয়োশি কুরোসাওয়ার নতুন ছবি ‘কোকুরোজো’ প্রদর্শিত হবে ‘প্রিমিয়ার’ বিভাগে। জাপানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই ছবির ইংরেজি নাম রাখা হয়েছে ‘সামুরাই অ্যান্ড দ্য প্রিজনার’।
সব মিলিয়ে এবারের কান চলচ্চিত্র উৎসবে জাপানি সিনেমার শক্তিশালী উপস্থিতি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, পুরস্কারের মঞ্চে এই সিনেমাগুলো কতটা সাফল্য অর্জন করতে পারে।

কোন মন্তব্য নেই