বক্স অফিসে ‘হেইল মেরি’র ঝড়

প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, ০৮:৩০

Project Hail Mary, প্রজেক্ট হেইল মেরি, Ryan Gosling movie, রায়ান গসলিং সিনেমা, sci fi movie 2026, Hollywood movie review, Project Hail Mary box office, Amazon MGM Studios, space thriller movie, Andy Weir movie, Project Hail Mary review Bangla, science fiction film, Hollywood blockbuster 2026, space mission movie, Interstellar style movie, new Hollywood movie, movie review Bangla, sci fi thriller, space adventure film, Project Hail Mary earnings

২৪৮ মিলিয়ন বাজেটের ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’ বিশ্বজুড়ে আয় করেছে ৬৪১ মিলিয়ন ডলার। রায়ান গসলিং অভিনীত এই সাই-ফাই থ্রিলারের গল্প, অভিনয়, বক্স অফিস সাফল্য ও বিস্তারিত রিভিউ জানুন।

মুক্তির এক মাস পরও বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সাই-ফাই চলচ্চিত্র ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’। ২৪৮ মিলিয়ন ডলার বাজেটের সিনেমাটি ইতোমধ্যে আয় করেছে ৬৪১ মিলিয়ন ডলার, যা চলতি বছরের তৃতীয় সর্বোচ্চ আয় করা ছবির তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। শুরুতে খুব বেশি আলোচিত না হলেও ধীরে ধীরে দর্শকদের প্রশংসায় এটি পরিণত হয়েছে বড় সফলতায়।

অ্যামাজন এমজিএম স্টুডিওজের ব্যানারে নির্মিত এই সিনেমা এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বেশি আয় করা চলচ্চিত্রের রেকর্ড গড়েছে। রায়ান গসলিং অভিনীত ছবিটির জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক গল্পের সঙ্গে আবেগ, রহস্য ও হাস্যরসের মিশ্রণ।

গল্পের শুরুতেই দেখা যায়, মহাকাশযানের ভেতর হঠাৎ জেগে ওঠেন গ্রেস। তাঁর স্মৃতির অনেকটাই হারিয়ে গেছে। চারপাশ বুঝে ওঠার আগেই তিনি জানতে পারেন, তিনি এক ভয়াবহ মিশনের অংশ। ধীরে ধীরে নিজের অতীত মনে করতে গিয়ে সামনে আসে পৃথিবীর সংকটময় বাস্তবতা।

একসময়কার মলিকুলার বায়োলজিস্ট গ্রেস বর্তমানে একজন শিক্ষক। কিন্তু সূর্যের ভেতরে ছড়িয়ে পড়া রহস্যময় সংক্রমণ ‘অ্যাস্ট্রোফেজ’ নিয়ে তাঁর একটি তত্ত্ব বদলে দেয় সবকিছু। কারণ, এই সংক্রমণের ফলে ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে সূর্যের আলো, যা পৃথিবীর অস্তিত্বকেই হুমকির মুখে ফেলেছে। মানবজাতিকে রক্ষার শেষ চেষ্টা হিসেবে শুরু হয় ‘হেইল মেরি’ মিশন।

মহাকাশযানে গ্রেসের দুই সহযাত্রী ইতোমধ্যে মারা গেছেন। এমন অবস্থায় একাই তাঁকে সামলাতে হয় পুরো পরিস্থিতি। এর মধ্যেই তাঁর পরিচয় হয় ভিনগ্রহের প্রাণী রকির সঙ্গে। এই অদ্ভুত বন্ধুত্বই পরে গল্পের সবচেয়ে আবেগঘন অংশ হয়ে ওঠে।

অ্যান্ডি উইয়ারের জনপ্রিয় উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ছবিটি পরিচালনা করেছেন ফিল লর্ড ও ক্রিস্টোফার মিলার। তাঁরা গল্পে বিজ্ঞান, আবেগ ও কৌতুককে এমনভাবে মিশিয়েছেন, যা দর্শকদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখে। বর্তমান ও অতীতের ঘটনাকে একসঙ্গে দেখানোর কৌশল সিনেমাটিকে আরও আকর্ষণীয় করেছে।

রায়ান গসলিংয়ের অভিনয় ছবিটির প্রধান শক্তি। বিশেষ করে একাকিত্ব, ভয় ও হাস্যরসের মুহূর্তগুলো তিনি দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। রকির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের দৃশ্যগুলো সিনেমায় আলাদা প্রাণ এনে দিয়েছে। সান্ড্রা হুলারও স্বল্প উপস্থিতিতে নিজের ছাপ রাখতে সক্ষম হয়েছেন।

তবে ছবিটির দৈর্ঘ্য কিছুটা বেশি মনে হতে পারে। প্রায় ২ ঘণ্টা ৩৬ মিনিটের সিনেমায় কিছু দৃশ্য অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ হয়েছে। এছাড়া মহাকাশভিত্তিক কিছু দৃশ্যে আগের জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের প্রভাবও চোখে পড়ে।

চিত্রগ্রহণ, ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট ও আবহসংগীত সিনেমাটিকে আরও শক্তিশালী করেছে। মহাকাশের নিঃসঙ্গতা এবং অনিশ্চয়তাকে পর্দায় দারুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’ এমন একটি চলচ্চিত্র, যা শুধু বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি নয়, মানবিক আবেগ ও টিকে থাকার সংগ্রামের গল্পও বলে। বক্স অফিসে এর সাফল্য বিস্ময়কর না হলেও, দীর্ঘমেয়াদে দর্শকের মনে কতটা জায়গা করে নিতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.