Header Ads

সীতাকুণ্ডে মাইকে ঘোষণায় র‍্যাবে হামলা: প্রাণ হারালেন এক কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

জঙ্গল সলিমপুর র‍্যাব হামলা, সীতাকুণ্ডে র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত, চট্টগ্রাম জঙ্গল সলিমপুর নিউজ, র‍্যাব-৭ অভিযান চট্টগ্রাম, মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া র‍্যাব, পাহাড় কাটা জঙ্গল সলিমপুর, চট্টগ্রামের অপরাধ সংবাদ, সলিমপুর ছিন্নমূল সন্ত্রাস।
ট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে র‍্যাব সদস্যদের ওপর বর্বরোচিত হামলা। নিহত হয়েছেন নায়েব সুবেদার মোতালেব হোসেন। কেন এই দুর্গম পাহাড় ভূমিদস্যুদের অভয়ারণ্য? জানুন বিস্তারিত।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল সলিমপুরে এক ভয়াবহ হামলার ঘটনায় র‍্যাব-৭-এর এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে গিয়ে ৪০০-৫০০ জনের এক উম্মত্ত জনতার কবলে পড়ে র‍্যাবের আভিযানিক দলটি। এ সময় মসজিদে মাইকিং করে পরিকল্পিতভাবে বাহিনীর সদস্যদের ওপর এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়।

ঘটনার বিবরণ ও হতাহত

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, ৪৩ জন সদস্যের একটি দল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের পাকড়াও করতে জঙ্গল সলিমপুরে প্রবেশ করে। বাহিনীটির উপস্থিতি টের পেয়েই স্থানীয় দুষ্কৃতকারীরা মসজিদের মাইক ব্যবহার করে চারপাশ থেকে লোক জড়ো করতে থাকে। মুহূর্তের মধ্যে শত শত মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে র‍্যাব সদস্যদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

আরো পড়ুন,

ট্রাম্পের কড়া বার্তা | শান্তির বাধ্যবাধকতা আর নেই

সীতাকুণ্ডে র্যাব কর্মকর্তার মৃত্যু | জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে রক্তক্ষয়ী হামলা


এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নায়েব সুবেদার মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়াসহ চারজন গুরুতর জখম হন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চট্টগ্রামের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোতালেব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত বাকি তিন সদস্য বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সিসিটিভি ফুটেজে হামলার দৃশ্য

পুলিশের সংগৃহীত একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, র‍্যাবের দুটি মাইক্রোবাস সলিমপুরে প্রবেশ করতেই একদল লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে সেগুলোকে ধাওয়া করছে এবং জানালার কাচ গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। এ সময় নেপথ্যে এলাকাটির প্রবেশপথ আটকে দেওয়ার ঘোষণা দিতে শোনা যায়। অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রক্তাক্ত অবস্থায় আহত র‍্যাব সদস্যরা একটি কক্ষে আশ্রয় নিয়েছেন, যেখানে মেঝেজুড়ে ছড়িয়ে আছে রক্ত।

অপরাধের ‘সেফ জোন’ জঙ্গল সলিমপুর

শহরের বায়েজিদ বোস্তামী সংলগ্ন ৩ হাজার ১০০ একর পাহাড় জুড়ে বিস্তৃত এই জঙ্গল সলিমপুর গত চার দশক ধরে অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। ৩ হাজার ১০০ একর সরকারি পাহাড় দখল করে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে এক সমান্তরাল শাসনব্যবস্থা। ভূমিদস্যুরা নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে এই দুর্গম জনপদ নিয়ন্ত্রণ করে। এমনকি সেখানে বাসিন্দাদের চলাচলের জন্য নিজস্ব ‘পরিচয়পত্র’ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সহিংসতার পুরোনো রেকর্ড

জঙ্গল সলিমপুরে প্রশাসনের ওপর হামলার ইতিহাস দীর্ঘ। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে ২০ জন পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট আহত হয়েছিলেন। ২০২২ সালেও একাধিকবার র‍্যাব ও জেলা প্রশাসনের ওপর ককটেল ও গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এলাকাটির দখল নিয়ে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে গোলাগুলি ও সাংবাদিক নিগ্রহের মতো ঘটনা নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি

র‍্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এম মোজাফফর হোসেন জানিয়েছেন, এই ন্যাক্কারজনক হামলার নেপথ্যে থাকা মূল হোতাদের শনাক্ত করতে কাজ শুরু হয়েছে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.