গাজীপুরে নাটকীয়তা: রিমান্ডের ৫ ঘণ্টার মাথায় জামিন পেলেন ‘জুলাই যোদ্ধা’ তাহরিমা

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর

তাহরিমা জান্নাত, জুলাই যোদ্ধা তাহরিমা, তাহরিমা জান্নাত সুরভী, গাজীপুর জেলা কারাগার, তাহরিমা জান্নাতের জামিন, চাঁদাবাজি মামলা, জাতীয় ছাত্রশক্তি বিক্ষোভ, তাহরিমার রিমান্ড, Tahrimat Jannat, July Warrior Survi, Gazipur Court News
গাজীপুরে রিমান্ড আদেশের মাত্র ৫ ঘণ্টার মাথায় জামিন পেয়ে কারামুক্ত হলেন ‘জুলাই যোদ্ধা’ তাহরিমা জান্নাত। ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে নাটকীয় এই মুক্তির বিস্তারিত জানুন।


গাজীপুরে এক নজিরবিহীন আইনি নাটকীয়তার পর কারামুক্ত হয়েছেন ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচিত তাহরিমা জান্নাত ওরফে সুরভী। সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুর বেলা ১টায় আদালত তাঁর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলেও, তার মাত্র পাঁচ ঘণ্টার ব্যবধানে সন্ধ্যার দিকে উচ্চতর আদালত থেকে জামিন পান তিনি। সব প্রক্রিয়া শেষে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় গাজীপুর জেলা কারাগার থেকে তিনি স্বজনদের মাঝে ফিরে আসেন।

গাজীপুর জেলা কারাগারের সুপার রফিকুল কাদের গণমাধ্যমকে জানান, আদালতের জামিন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তাহরিমাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনা ও আইনি লড়াই

সোমবার সকাল থেকেই গাজীপুর আদালত চত্বরে ছিল টানটান উত্তেজনা। তাহরিমাকে আদালতে হাজির করা হবে—এমন খবরে জাতীয় ছাত্রশক্তির বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী সেখানে ভিড় করেন। তারা ‘জুলাই যোদ্ধা’র নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মুহুর্মুহু স্লোগান দিতে থাকেন।

দুপুর ১টার দিকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক সৈয়দ ফজলুল মহাদি তাহরিমার দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে আদালতপাড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা হুঁশিয়ারি দেন যে, অবিলম্বে তাহরিমাকে মুক্তি না দিলে সারা দেশে ‘ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করা হবে।

আরো পড়ুন,

এই পরিস্থিতির মধ্যেই বিকেলে অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ-১-এর বিচারক অমিত কুমার দের আদালতে জামিন আবেদন করা হলে তিনি তাহরিমার চার সপ্তাহের জামিন মঞ্জুর করেন। সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে এই আদেশ আসার পর পাল্টে যায় পুরো চিত্র।

তাহরিমার প্রতিক্রিয়া: ‘তদন্ত ছাড়াই রিমান্ড’

কারাগারে যাওয়ার আগে আদালত চত্বরে প্রিজন ভ্যানে ওঠার সময় তাহরিমা জান্নাত চিৎকার করে তাঁর ওপর অন্যায়ের অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, “কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই আমাকে রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে কোনো তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়নি, তবুও রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।”

মেয়ের মুক্তি প্রসঙ্গে তাহরিমার মা মোসা. সোহাগী আক্তার বলেন, “আমার মেয়েকে একটি বানোয়াট মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল। জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় আজ সে ন্যায়বিচার পেয়েছে।”

মামলার নেপথ্যে যা আছে

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৬ নভেম্বর কালিয়াকৈর থানায় নাইমুর রহমান দুর্জয় নামে এক সাংবাদিক তাহরিমার বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। এই মামলায় গত ২৫ ডিসেম্বর রাতে টঙ্গীর নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন ২১ বছর বয়সী তাহরিমা।

মামলার এজাহারে তাহরিমার বিরুদ্ধে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, ব্ল্যাকমেলিং এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ ও সেনাপ্রধানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ আনা হয়েছে।

তবে তাহরিমার আইনজীবী আলী নাসের খান এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, “বাদী নাইমুর রহমানের বিরুদ্ধে আমার মক্কেল আগে একটি মামলা করেছিলেন। সেই মামলার প্রতিহিংসা থেকেই এই পাল্টা মামলা করা হয়েছে। একটি কুচক্রী মহল রাজনৈতিক রং দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে মনে রাখতে হবে, জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে যারা দাঁড়াবে, তাদের জন্য আবারও জুলাই ফিরে আসবে।

মোঃ রাফি


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.