যশোরে ভরসন্ধ্যায় সন্ত্রাসীদের থাবা: মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারালেন বিএনপি নেতা আলমগীর
যশোর প্রতিনিধি |
যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় এক বর্বরোচিত হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন (৫৫)। শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে নিজ বাড়ির অদূরে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
যেভাবে প্রাণ হারালেন আলমগীর হোসেন
নিহত আলমগীর হোসেন যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক নগর বিএনপি সদস্য ছিলেন। পেশায় তিনি ছিলেন একজন ভূমি ব্যবসায়ী।
পারিবারিক ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় আলমগীর হোসেন মোটরসাইকেলযোগে শংকরপুরের বটতলা এলাকা থেকে নিজ গন্তব্যে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে হুদা মেমোরিয়াল একাডেমির সামনে পৌঁছানো মাত্রই ওত পেতে থাকা ঘাতকরা তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। খুনিরা অত্যন্ত কাছ থেকে তাঁর মাথা লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
আরো পড়ুন,
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিচিত্র মল্লিক ঘটনার ভয়াবহতা নিশ্চিত করে জানান, আলমগীরের মাথার দুই পাশ দিয়ে দুটি বুলেট বিদ্ধ হয়েছে, যা তাঁর তাৎক্ষণিক মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
তদন্তে পুলিশ: সিসিটিভি ফুটেজ ও মোটিভ বিশ্লেষণ
হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তৎপরতা শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আবুল বাশার গণমাধ্যমকে জানান, অপরাধীদের শনাক্ত করতে এরই মধ্যে ঘটনাস্থল ও আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আলমগীর হোসেনের রাজনৈতিক জীবন ও জমি কেনাবেচার ব্যবসার সূত্রে কোনো শত্রুতা তৈরি হয়েছিল কি না, পুলিশ সেই দিকগুলো বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র ক্ষোভ ও শোক
বিএনপি নেতার এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান যশোর-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম (অমিত)। তিনি শোকার্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
এ সময় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "বিএনপি নেতা-কর্মীদের টার্গেট করে হত্যার যে সংস্কৃতি বিগত ফ্যাসিবাদের সময় শুরু হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি এখনো আমরা দেখতে পাচ্ছি। এটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য বড় হুমকি।" তিনি অবিলম্বে এই খুনের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তোলেন।
এলাকায় সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আলমগীর হোসেন এলাকায় একজন পরোপকারী ও সজ্জন মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, "আমার ভাই কোনো ঝামেলার মানুষ ছিলেন না। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি নিজের ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। কারো সাথে তাঁর দৃশ্যমান কোনো বিরোধ ছিল না। কারা তাঁকে এভাবে কেড়ে নিল, আমরা তা বুঝতে পারছি না।"
যশোরের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী মহলে এই খুনের ঘটনা নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত খুনিদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
মোঃ রাফি
কোন মন্তব্য নেই