রাষ্ট্রীয় বিশেষ সম্মানে শেষ বিদায় জানানো হবে বেগম খালেদা জিয়াকে: প্রেস সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

খালেদা জিয়া, জানাজা, দাফন, রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, শফিকুল আলম, প্রেস সচিব, বিএনপি, এভারকেয়ার হাসপাতাল, সংসদ ভবন, বাংলাদেশ সংবাদ, Khaleda Zia News, State Funeral, Bangladesh Politics.

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন হবে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়। বুধবার সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে মরদেহ আনা হবে এবং ১০ হাজার নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন থাকবে। বিস্তারিত জানালেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

দেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তাঁর জানাজা, দাফন এবং শোক পালনের যাবতীয় প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। সভায় সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর বিদায়কালীন নিরাপত্তা ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বুধবার সংসদ ভবনে শেষ শ্রদ্ধা

প্রেস সচিব জানান, বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালের সূচি অনুযায়ী বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে সরাসরি জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হবে। হাসপাতাল থেকে সংসদ ভবন পর্যন্ত মরদেহ বহনকারী কাফেলাটি বিশেষ রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ও নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পৌঁছাবে। জানাজা ও দাফনসহ সকল আনুষ্ঠানিকতা যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মানের সঙ্গেই পালন করা হবে।

১০ হাজার নিরাপত্তা সদস্য ও সেনাবাহিনী মোতায়েন

বেগম জিয়ার শেষ বিদায় ঘিরে রাজধানীতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হচ্ছে। শফিকুল আলম উল্লেখ করেন, জানাজা ও দাফনস্থলসহ পুরো যাত্রাপথের শৃঙ্খলা রক্ষায় ১০ সহস্রাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়া রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তায় সেনাবাহিনীও টহল দেবে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো প্রক্রিয়াটি বিএনপির সাথে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হচ্ছে।

উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব

মরহুমার জানাজায় অংশ নেবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, অন্যান্য উপদেষ্টা মণ্ডলী এবং বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এছাড়া বিদেশি কূটনীতিকদের উপস্থিতিও নিশ্চিত করা হয়েছে। শোকের এই ক্ষণে জাতীয় সংসদ ভবন, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের মিশনসমূহ এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শোক বই খোলা হবে যাতে সর্বস্তরের মানুষ তাঁদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে পারেন।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর এই প্রয়াণে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে। আগামীকাল রাষ্ট্রীয় বিশেষ মর্যাদায় তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.