নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি দমনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আগামীর বাংলাদেশের নতুন রূপরেখা জানালেন তারেক রহমান। তরুণদের সাথে আড্ডায় মনোরেল, ফ্যামিলি কার্ড এবং শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে তাঁর যুগান্তকারী পরিকল্পনার বিস্তারিত জানুন।
দেশের বিদ্যমান সংকট নিরসনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং দুর্নীতি দমনকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বিশ্বাস করেন, এই দুটি মৌলিক জায়গায় আমূল পরিবর্তন আনতে পারলে জাতীয় পর্যায়ের অধিকাংশ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।
শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ পার্কে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে এক অনাড়ম্বর আলাপচারিতায় তিনি তাঁর এই ভবিষ্যৎ ভাবনার কথা তুলে ধরেন। ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের জন্য আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কোনো মঞ্চ বা মাইকের ব্যবহার ছিল না। লেকের ধারের উন্মুক্ত পরিবেশে ১২টি চেয়ারে বসে অত্যন্ত ঘরোয়া পরিবেশে তরুণদের প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে মেয়ে জাইমা রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স
তারেক রহমান স্পষ্ট জানান, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং রাজপথে নির্ভয়ে চলাচলের নিশ্চয়তা দেওয়াই হবে তাঁর প্রথম কাজ। তিনি বলেন, "দুর্নীতিকে যেভাবেই হোক কার্যকর উপায়ে মোকাবিলা করতে হবে। সমাজের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে থাকা এই অনিয়মগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে উন্নয়নের পথ সুগম হবে।" গত বছর দেশে ফেরার পর তিনি যে ‘প্ল্যান’ বা পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন, তারই অংশ হিসেবে তিনি এই অগ্রাধিকারগুলো নির্ধারণ করেছেন।
যোগাযোগ ব্যবস্থায় আধুনিকায়ন ও মনোরেল
ঢাকার তীব্র যানজট নিরসনে প্রথাগত চিন্তার বাইরে গিয়ে কথা বলেন তারেক রহমান। তিন কোটি মানুষের এই মহানগরীকে সচল রাখতে তিনি ব্যয়বহুল মেট্রোরেলের বিকল্প হিসেবে ‘মনোরেল’ চালুর প্রস্তাব দেন। তাঁর মতে, মনোরেল স্থাপন সহজ এবং এটি তুলনামূলক কম খরচে সাধারণ মানুষকে সেবা দিতে সক্ষম। এছাড়া রাজধানীর ওপর চাপ কমাতে আশেপাশের জেলাগুলোর সাথে উন্নত রেল যোগাযোগ এবং ছোট ছোট স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
শিক্ষায় আনন্দ ও মানবিকতা
শিক্ষাব্যবস্থাকে সংস্কার করে আরও শিশুবান্ধব ও আনন্দময় করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। তারেক রহমান জানান, পাঠ্যক্রমে কেবল বইয়ের পড়া নয়, বরং ব্যবহারিক শিক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। ভূগোলের মতো বিষয়ে ১০০ নম্বরের মধ্যে ৩০ নম্বর বরাদ্দ থাকবে খেলাধুলার জন্য, যাতে শিক্ষার্থীরা ভালোবেসে পড়াশোনা করে। এছাড়া প্রাণিকুলের প্রতি মানবিক হতে পাঠ্যসূচিতে পশুপাখি লালন-পালনের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করার কথা ভাবছেন তিনি।
সর্বজনীন ফ্যামিলি কার্ড ও সাইবার নিরাপত্তা
সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের বিশৃঙ্খলা দূর করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর ঘোষণা দেন তিনি। এর মাধ্যমে বিধবা, একা মা এবং সুবিধাবঞ্চিত নারীদের রাষ্ট্রীয় সুবিধার আওতায় এনে একটি সুসংগঠিত কাঠামো তৈরি করা হবে।
অনলাইনে নারী হয়রানি ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধ নিয়ে আলোচনায় জাইমা রহমান তাঁর মতামত তুলে ধরেন। তিনি ডিজিটাল শিক্ষার গুরুত্ব এবং ফেসবুকের মতো বড় প্ল্যাটফর্মগুলোর স্থানীয় অফিস বাংলাদেশে আনার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন। তারেক রহমানও শিশুদের ছোটবেলা থেকেই নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে ডিজিটাল সচেতন করার ওপর জোর দেন।
প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপট
তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় সারাদেশ থেকে প্রায় ২ হাজার ৩০০ তরুণ ভিডিও রিলের মাধ্যমে তাদের স্বপ্ন ও প্রস্তাবনা জমা দিয়েছিলেন। সেখান থেকে নির্বাচিত সেরা ১০ জন বিজয়ীর সাথে এই মতবিনিময় সভার মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশের এক নতুন রূপরেখা ফুটে ওঠে।
মোঃ রাজু আহমেদ
কোন মন্তব্য নেই: