ইরাক যুদ্ধে তার ভূমিকার কারণে টনি ব্লেয়ারকে গাজার ‘শান্তি প্রক্রিয়ার’ কেন্দ্রবিন্দুতে স্থান দেওয়া হচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসনের ওপর তদারকির দায়িত্বে যে ‘বোর্ড অব পিস’ কমিটি গঠন করা হচ্ছে, তাতে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারকে রাখা হচ্ছে না। ইরাক যুদ্ধে তার ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। ১০ অক্টোবর থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ শুরু হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে উপত্যকাটি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে থাকবে এবং এর তদারকিতে কাজ করবে বোর্ড অব পিস নামের একটি কমিটি। ট্রাম্পের পছন্দ অনুসারে, ৭২ বছর বয়সী ব্লেয়ারকে এই কমিটিতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার কথা ছিল।
তবে কয়েকটি আরব রাষ্ট্র এ বিষয়ে আপত্তি জানায়। ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের সময় যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে ব্লেয়ারের ভূমিকা নিয়ে এখনও বিতর্ক রয়েছে। তখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্তরাজ্যও এই যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল এবং সে সময় ব্লেয়ারই ছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
এ বিষয়ে অবগত একটি সূত্রের বরাতে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস আরও জানায়, টনি ব্লেয়ার বোর্ড অব পিস থেকে বাদ পড়লেও তিনি অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন। ইসরায়েলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রও বোর্ড অব পিসে ব্লেয়ারকে অন্তর্ভুক্ত করতে আগ্রহী। তবে আরব ও মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে এ নিয়ে তীব্র আপত্তি রয়েছে।
কাদের পক্ষ থেকে এই আপত্তি এসেছে তা নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। অথচ চলতি বছরের শুরুতে মিসরে ব্লেয়ারের সম্ভাব্য সফরের প্রসঙ্গ উঠতেই দেশটির সাধারণ মানুষ ও রাজনীতিকদের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রতিবাদ দেখা গিয়েছিল। মিসরের সাবেক মন্ত্রী কামাল আবু এইতা দ্য নিউ আরবকে জানান, টনি ব্লেয়ার এমন একজন ব্যক্তি যিনি ঔপনিবেশিক ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে বাড়তি সম্পৃক্ত।
গাজার প্রশাসন স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমেই পরিচালিত হওয়া উচিত বলে মিসর এই বিষয়টিতে অনড়। ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের বিরুদ্ধে মিসরের রাজধানী কায়রো, জর্ডানের আম্মান এবং লেবাননের বৈরুতে যেমন বিক্ষোভ হয়েছিল, তেমনি লন্ডনেও সাধারণ মানুষ প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছিল।
এতে যুক্তরাজ্যের ভেতরেও ব্লেয়ারের জনপ্রিয়তায় উল্লেখযোগ্য ধস নেমেছিল। ২০০৭ সালে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর পর টনি ব্লেয়ার কোয়ারটেট নামে একটি আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যারা ফিলিস্তিন-ইসরায়েল শান্তি প্রক্রিয়ার উপর নজর রাখে।
২০১৫ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করার সময় ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন যে ব্লেয়ার পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছেন এবং ইসরায়েলের প্রতি তার ঝোঁক ছিল।

কোন মন্তব্য নেই: