বেসরকারি খাতে ৯১৮ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১২টি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অনুমোদিত সব সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিল করার পর এখন অন্তর্বর্তী সরকার ১২টি কেন্দ্রের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সরকার মোট ৯১৮ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার ১২টি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করার পরিকল্পনা করেছে, যেগুলোর বিদ্যুৎ ২০ বছরের জন্য ক্রয় করা হবে। 
বেসরকারি খাতে ৯১৮ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১২টি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে।


নতুন ট্যারিফ অনুসারে খরচ কিছুটা কমবে, যার ফলে বছরে ৪২০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। সচিবালয়ে আজ অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই ১২টি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের নতুন ট্যারিফ অনুমোদনের প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ এ প্রস্তাব উত্থাপন করে এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বাবিউবো)। 

বৈঠক শেষে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান। তিনি বলেন, দুর্নীতিযুক্ত প্রক্রিয়া থেকে দুর্নীতিমুক্ত প্রক্রিয়ায় যাওয়ার পথে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন ট্যারিফে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টার মূল্য দুই থেকে তিন সেন্ট কমে গেছে, যার ফলে বছরের মোট ভবিষ্যৎ সাশ্রয় হবে উল্লেখযোগ্য। 

ডলার রেট অনুসারে দুই সেন্টের মূল্যটি দাঁড়ায় ২ টাকা ৪৪ পয়সা। এলএনজি ব্যয়বহুল হওয়ায় এখন সৌরবিদ্যুতের দিকে ঝোঁক দেওয়া হচ্ছে বলে উপদেষ্টা উল্লেখ করেন। তিনি আরো জানান যে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে নানাভাবে বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে, যা কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) কর্মসূচি হওয়া অর্থ ব্যয় এবং সাবেক দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী ও সচিবদের সম্পৃক্ততাকে নির্দেশ করে। 

উপদেষ্টা আরও জানান, বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীরা দরপত্রপ্রক্রিয়ায় অসহযোগিতা করেছেন, এমনকি বিদ্যুৎ বিভাগের অভ্যন্তর থেকেও বাধা এসেছে। অন্যদিকে, গত সরকারে অনুমোদন লাভ করা ৩৭টি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্মতিপত্র অন্তর্বর্তী সরকার বাতিল করে দেয়, যার মধ্যে ৩১টি বেসরকারি খাতের ছিল এবং সেগুলো দরপত্র ছাড়া চুক্তি মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছিল। 

তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী নতুন ট্যারিফে ইতোমধ্যেই চট্টগ্রাম অঞ্চলে ফটিকছড়ি, হাটহাজারীসহ বেশ কয়েকটি স্থানে কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কক্সবাজার, পাবনা, নীলফামারী, হবিগঞ্জ, নোয়াখালী ও বাগেরহাটসহ অন্যান্য এলাকায়ও এসব কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ চলমান থাকবে। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, পূর্বে প্রস্তাবিত প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুতের মূল্য ছিল ১৩ টাকার বেশি, যা নতুন ট্যারিফ নির্ধারণের মাধ্যমে কিছুটা কমানো হয়েছে। 

বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, বিগত সরকারের সময়ে ‘বিশেষ বিধান আইন’ কার্যকর করে অযাচিতভাবে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের চুক্তি করা হয়েছিল। বর্তমান উদ্যোগে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.