শ্রমিকদের সক্রিয় করতে নতুন কৌশলে বিএনপি

আজকের খবর, আজকের সর্বশেষ সংবাদ, Breaking news Bangladesh, Latest news in Bangladesh, Bangladesh news today, আজকের টপ নিউজ, জাতীয় খবর আজ, আজকের গুরুত্বপূর্ণ খবর,


বিএনপি যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের নিয়ে যে জোট বা ঐক্যবদ্ধ নির্বাচনের পরিকল্পনা করছিল, সেটিতে কিছু পরিবর্তন আসছে বলে জানা যাচ্ছে। দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচনে শরিক দলগুলোর সঙ্গে বিএনপির সরাসরি কোনো জোট হচ্ছে না। বরং কিছু আসনে সমঝোতার ভিত্তিতে কাজ করা হবে। 

এতে কয়েকজন শরিক দলের শীর্ষ নেতার আসনে বিএনপি প্রার্থী দেবে না। এছাড়াও যে আসনগুলো শরিকদের জন্য ছেড়ে দেওয়া হবে, সেখানে বিএনপি ভুলক্রমে প্রার্থী দিলে তা প্রত্যাহার করে নিতেও প্রস্তুত। পাশাপাশি, কিছু আসনে প্রার্থিতা উন্মুক্ত থাকবে, যেখানে বিএনপির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ থাকবে। বর্তমান নির্বাচনকেন্দ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেই এই কৌশলের কথা ভেবেছে বিএনপি। দলের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের ধারণা, আওয়ামী লীগ এ নির্বাচনে অনুপস্থিত থাকলেও নির্বাচন তাদের জন্য পূর্বানুমানের চেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। 

শরিক দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যুগপৎ আন্দোলনের শরিক বা মতাদর্শগত মিত্রদের জন্য আসন ছাড়ার প্রক্রিয়া নির্ধারণ করতে গিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে যথেষ্ট চাপে পড়তে হয়েছে। বিএনপির রক্ষণশীল অবস্থানের কারণ হিসেবে জানা যাচ্ছে, দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতার কারণে শরিকদের জন্য আসন ছেড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে দলটি সতর্ক আচরণ করছে। 

এর মূল কারণ গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে জনগণ সুষ্ঠুভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। ২০১৪ এবং 2024 সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি, আর ২০১৮ সালে অংশ নিলেও মাঠে সেভাবে সক্রিয় থাকতে পারেনি। এসব কারণে দলের অভ্যন্তরে প্রার্থী হওয়ার প্রতিযোগিতা বেড়ে গেছে। এছাড়া দীর্ঘ ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনে নির্যাতিত-নিপীড়িত নেতাকর্মীদের মধ্যে অসামান্যভাবে নির্বাচনী প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ দেখা দিচ্ছে, যা সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। 

দলের উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষ এই আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করতে পারছে না। এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এটা জোট নয়। তবে বিগত যুগপৎ আন্দোলনের ধারণা অনুযায়ী শরিকদের কিছুটা ছাড় দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি উল্লেখ করা হয়েছে যে, শরিকদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনাময় প্রার্থীদের জন্য আসন ছাড়তে হবে। 

তবে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি জানিয়েছেন, এখনো বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। তিনি বলেছেন, তার যে বোধগম্য হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে বিএনপি শরিকদের কিছু শীর্ষ নেতার আসন ছেড়ে দেবে। তবে কাদের জন্য এই সুবিধা নিশ্চিত হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং আলাপ-আলোচনা চলছে। 

এরই মধ্যে অবশ্য শরিক দলের মধ্যে কিছু অসন্তোষ এবং হতাশার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। তাই বিএনপি দ্রুত এই বিষয়ে সুরাহার চেষ্টা করছে। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে চারটি পৃথক জোট বা নির্বাচনী ঐক্যের কর্মকাণ্ড স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তবে এ ব্যাপারে বিএনপি এখনও যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধ নির্বাচনকে সরাসরি জোটের আকার দিচ্ছে না

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বর্তমান প্রক্রিয়াটি কোনো জোট গঠনের উদ্যোগ নয়। প্রথম আলোকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, যুগপৎ আন্দোলনের ধারণা অনুযায়ী শরিক দলগুলোর জন্য কিছু আসন ছাড় দেওয়া হবে। এরই মধ্যে বিএনপি দুটি ধাপে ২৭২টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে, তবে এই পদক্ষেপের আগে শরিক দলগুলোর সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি। 

ফলে এ নিয়ে শরিক দলগুলোর মধ্যে অসন্তোষের অনুভূতি দেখা দিয়েছে। শরিকদের বিভিন্ন সূত্র জানায়, শরিকদের জন্য বিএনপি কতটি আসন ছেড়ে দেবে তা এখনো অস্পষ্ট। ইতোমধ্যে ঘোষিত আসনগুলোর মধ্যে কয়েকটি এমনও রয়েছে যেখানে শরিক দলের নেতারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক। বিশেষ করে কিশোরগঞ্জ-৫, নড়াইল-২, কুষ্টিয়া-২ এবং ঢাকা-১২ আসন উল্লেখযোগ্য। 

এগুলোর মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট দলের নেতৃত্বাধীন প্রার্থীদের মতো জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাতীয় পার্টির আহসান হাবিব লিংকন এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক। আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো ঘোষণা না দিলেও লক্ষ্মীপুর-১ আসনে সাবেক বাংলাদেশ এলডিপি চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিমের প্রার্থিতা নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি সম্প্রতি দলবলসহ বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন এবং তার ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিনের আন্দোলনের মাধ্যমে যে ঐক্য তৈরি হয়েছে, সেটি বজায় রাখতে এবং আসন ভাগাভাগি নিয়ে উদ্ভূত দূরত্ব মেটাতে ১৭ ও ১৮ ডিসেম্বরের ভেতর আলোচনা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। শরিকদের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা বিএনপির নেতারা বলছেন, যদি কোন আসনে বিএনপির ঘোষিত প্রার্থী থেকে থাকে এবং সে আসন শরিকদের ছাড় দেওয়ার তালিকায় আসে, তাহলে সেই প্রার্থীকে সরিয়ে নেওয়া হবে। 

গণতন্ত্র মঞ্চের শরিক কিছু দলের শীর্ষ নেতার জন্য বিএনপি প্রার্থী না দেওয়ার বিষয়েও আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন, জেএসডি এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির মতো দলগুলো অন্তর্ভুক্ত।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.