সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে ফেরার পথে গ্রেপ্তার হয়েছেন সাবেক যুবলীগের এক নেতা।
সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে ফেরার পথে গ্রেপ্তার হয়েছেন সাবেক যুবলীগের এক নেতা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা–১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের পর বাড়ি ফেরার পথে গ্রেপ্তার হয়েছেন কুতুবুল্লাহ হোসেন মিয়া, শ্রীপুর উপজেলার শ্রীকোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি। সোমবার বিকেলে মাগুরা শ্রীপুর আঞ্চলিক সড়কের আঠারোখাদা এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
জানা গেছে, কুতুবুল্লাহ হোসেন সোমবার জেলা প্রশাসক ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রিটানিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। সেখান থেকে ফেরার পথে তাঁকে পুলিশ আটক করে। মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আশিকুর রহমান জানিয়েছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় দায়েরকৃত একটি নাশকতার মামলায় তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসেবে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি মতে, দীর্ঘদিন ধরে কুতুবুল্লাহ পলাতক ছিলেন।
তবে কুতুবুল্লাহর পরিবারের পক্ষ থেকে ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। তাঁদের মতে, ৫ আগস্টের পরে তাঁর নামে দায়েরকৃত দুটি মামলায় তিনি আত্মসমর্পণ করে কারাভোগ করেছেন এবং জামিনে ছিলেন। ভাই শরিয়তউল্লাহ হোসেন মিয়া জানিয়েছেন, কুতুবুল্লাহ স্বাভাবিকভাবেই ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন এবং নিয়মিত চলাফেরা করছিলেন। তাঁর ধারণা, মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করার কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করার পর কুতুবুল্লাহ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, তিনি বর্তমানে কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত নেই এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার পরিকল্পনা করেছেন। এর আগেও তিনি এই আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। উল্লেখ্য, কুতুবুল্লাহ হোসেন ২০২১ সালের ডিসেম্বরে শ্রীকোল ইউপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
নব্বইয়ের দশকে তিনি শ্রীপুর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন, তবে পরবর্তীতে দলীয় কোনো পদে আসীন হননি। ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও পরাজিত হন। তাঁর বাবা, আকবর হোসেন মিয়া, মুক্তিযুদ্ধের সময় শ্রীপুর বাহিনীর অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন
কোন মন্তব্য নেই