দিব্যা ভারতীর মৃত্যু রহস্য: তিন দশক পেরিয়েও অজানা শেষ রাতের ঘটনা
দিব্যা ভারতীর আকস্মিক মৃত্যু সেই সময় বলিউডকে থমকে দিয়েছিল। খ্যাতির শিখরে থাকা অবস্থায় মাত্র ১৯ বছর বয়সে তাঁর এই মর্মান্তিক পরিণতিতে রয়ে গিয়েছে বহু জটিল প্রশ্ন, অসমাপ্ত স্বপ্ন আর এক রহস্য, যা আজও উন্মোচিত হয়নি, তার তিন দশকেরও বেশি সময় পরেও।
বলিউডের ইতিহাসে বহু ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু দিব্যা ভারতীর কাহিনী অন্যতম হৃদয়বিদারক এবং বিস্ময়কর। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে, যখন মুম্বাই বোমা বিস্ফোরণের ঘা কাটিয়ে উঠছিল এবং হিন্দি চলচ্চিত্রশিল্প পুনরুজ্জীবিত হওয়ার চেষ্টা করছিল, সে সময়ে দিব্যার আবির্ভাব যেন এক সতেজ বাতাসের ঝলকানি। তরুণ, প্রাণোচ্ছল এবং অসামান্য প্রতিভাধর দিব্যা রাতারাতি দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন। কিন্তু এত ঝলমলে যাত্রা এত তাড়াতাড়ি থেমে যাবে, তা কেউ ভাবেনি।
দ্রুত তারকাখ্যাতি অর্জনের যাত্রা
১৯৯২ সালে 'বিশ্বত্মা' ছবির মাধ্যমে বলিউডে তাঁর অভিষেক হলেও "সাত সমুন্দর পার" গানটি তাঁকে চোখের পলকেই ঘরে ঘরে পরিচিত করে তোলে। এরপরের গল্পটা রূপকথার মতো। 'শোলা অউর শবনম', 'দিওয়ানা', 'দিল আশনা হ্যায়'—প্রতি ছবিই তাঁকে সময়ের সবচেয়ে চাওয়া-পাওয়া নায়িকায় পরিণত করেছিল।
মাত্র ১৮ বছর বয়সে এক বছরে ১২টিরও বেশি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হন তিনি, যা সেই সময়ে বিরল একটি রেকর্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রযোজকেরা তাঁকে হাতছাড়া করতে চাইতেন না, পরিচালকেরা ছিলেন তাঁর প্রতি আশাবাদী, আর দর্শকদের কাছে তিনি হয়ে উঠেছিলেন এক নির্মল আকর্ষণের প্রতীক। মনে হচ্ছিল, বলিউডে তাঁর শাসন দীর্ঘ পথ পাড়ি দেবে।
ব্যক্তিগত জীবনের গোপন অধ্যায়
তবে ক্যামেরার ঝলমলে আলোয় দিব্যার ব্যক্তিগত জীবনের জটিলতা আড়ালেই ছিল। গোপনে তিনি প্রযোজক সাজিদ নাদিয়াদওয়ালাকে বিয়ে করেন এবং শোনা যায় যে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিজের নাম সানা রাখেন। এই বিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গোপন রাখা হয় এবং তা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়।
বিভিন্ন সূত্র মতে, নিজের ক্যারিয়ারের চূড়ায় থাকার পাশাপাশি এই গোপন বিবাহ এবং মানসিক চাপের কারণে দিব্যা বেশ বিপর্যস্ত সময় কাটাচ্ছিলেন। বলা হয়, সাজিদের পরিবারের কাছ থেকে সম্পর্কের স্বীকৃতি না পাওয়াও ছিল তাঁর উদ্বেগের একটি কারণ, যদিও সাজিদ এই কথাগুলি বরাবরই অস্বীকার করে এসেছেন।
মর্মান্তিক রাতের দুর্ঘটনা
১৯৯৩ সালের ৫ এপ্রিল রাতে মুম্বাইয়ের ভার্সোভায় নিজের ফ্ল্যাটে দিব্যা ছিলেন স্বামী সাজিদ নাদিয়াদওয়ালা এবং ডিজাইনার নীতুলুল্লার সঙ্গে। শোনা যায়, সে রাতে মদ্যপানের আসর চলছিল এবং আড্ডা জমেছিল। একসময় জানালার দিকে গিয়ে কার্নিশে বসার সময় ভারসাম্য হারিয়ে তিনি পাঁচতলা থেকে নিচে পড়ে যান। তাঁর ফ্ল্যাটের জানালায় কোনো সুরক্ষা গ্রিল ছিল না। দিব্যাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পৌঁছানোর আগেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
অসামান্য প্রতিভাধর এই অভিনেত্রীর আকস্মিক মৃত্যুর সময় মাত্র ১৯ বছর।
তত্ত্ব ও বিতর্ক: দুর্ঘটনা নাকি কিছু আরও দিব্যার মৃত্যু ঘিরে জন্ম নেয় নানা তত্ত্ব ও বিতর্ক। কেউ বলে আত্মহত্যা, কেউ দাবি করে এটি হত্যাকাণ্ড। এমনকি আন্ডারওয়ার্ল্ডের সম্পৃক্ততার কথাও শোনা যায়। সাজিদ নাদিয়াদওয়ালা প্রায়শই অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন, তবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পুলিশি তদন্তে এটি একটি দুর্ঘটনাজনিত পতন বলে উল্লেখ করা হয় এবং দিব্যার রক্তে উচ্চমাত্রার অ্যালকোহল পাওয়া যায়।
১৯৯৮ সালে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে এই মামলার তদন্ত বন্ধ

কোন মন্তব্য নেই